আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিপাকে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার প্রদান করার কারণে। এই ঘটনা ঘটে ৫ ডিসেম্বর বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে, যেখানে ট্রাম্পের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পুরস্কার প্রদানের পর থেকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পকে এই ধরনের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির লঙ্ঘন হয়েছে। বিশেষ করে এমন একটি সময়ে, যখন একজন দায়িত্বে থাকা রাজনৈতিক নেতাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা পুরস্কার দেয়, তা সরাসরি ফিফার নিরপেক্ষতার নীতি ভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘ফেয়ারস্কোয়ার’ একটি অভিযোগপত্রে জানিয়েছে, ইনফান্তিনো ফিফার চারটি স্পষ্ট রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। সংস্থাটি ফিফার নৈতিকতা কমিটিকে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফিফার সভাপতির ক্ষমতা সংস্থার লক্ষ্য, কৌশলগত দিকনির্দেশনা, নীতি বা মূল্যবোধ একতরফাভাবে নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, যা ইনফান্তিনো করেছেন বলে তারা মনে করছেন।
পুরস্কার গ্রহণের সময় ট্রাম্প বলেন, ‘পৃথিবী এখন অনেক নিরাপদ জায়গা। এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা সম্মান। আমরা লাখ লাখ জীবন রক্ষা করেছি, যেমন কঙ্গোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধে নেমে যাওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। জিয়ান্নি অসাধারণ কাজ করেছেন। এছাড়া, টিকিট বিক্রিতে রেকর্ডও গড়া হয়েছে।’
ফিফা ও তার সভাপতির এ ধরনের পদক্ষেপকে নিয়ে বিভিন্ন ফুটবল বিশ্লেষক ও সমালোচকও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে ফিফাকে সব সময় রাজনৈতিক নিরপেক্ষ থাকা উচিত, যাতে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা দেশের সঙ্গে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে না।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার সভাপতির পদে থাকা অবস্থায় ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কতটা গ্রহণযোগ্য এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফিফার নৈতিকতা ও বিশ্বস্ততায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
ফলে, ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার প্রদানের ঘটনায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখন সমালোচনার মুখে পড়েছেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার নৈতিকতা বিষয়ক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।