ক্রিকেটবিশ্ব যাকে লড়াকু সেমিফাইনাল হিসেবে দেখার অপেক্ষায় ছিল, কলকাতার ইডেন গার্ডেনে তাকে স্রেফ একপেশে মহড়ায় রূপান্তর করল নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপের দুই ‘অভাগা’ দল হিসেবে পরিচিত নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার লড়াইয়ে জয়-পরাজয় নিয়ে রোমাঞ্চের ছিটেফোঁটা অবশিষ্ট ছিল না। বরং ইনিংসের শেষভাগে এসে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল—ফিন অ্যালেন কি তার প্রাপ্য সেঞ্চুরিটি পাবেন? সব রোমাঞ্চকে বাস্তবতায় রূপ দিয়ে চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডকে পৌঁছে দিলেন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে।
Table of Contents
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও ফিন অ্যালেনের অতিমানবীয় ব্যাটিং
দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেন যা করলেন, তাকে স্রেফ ধ্বংসযজ্ঞ বলা চলে। ইনিংসের দশম ওভার শেষে যখন নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য মাত্র ৪৬ রান প্রয়োজন, তখন অ্যালেন ছিলেন সেঞ্চুরি থেকে অনেক দূরে। কিন্তু পরের মাত্র ১৭ বলের ঝড়ে তিনি একাই ৪২ রান তুলে নেন। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড গড়ে দলকে ৯ উইকেটের বিশাল জয় এনে দেন মাত্র ১২.৫ ওভারে। অ্যালেনের অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল বিধ্বংসী সব বাউন্ডারি ও ছক্কায়।
সেমিফাইনালের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড ও বিশেষ অর্জন
| বিষয় | দক্ষিণ আফ্রিকা (ইনিংস) | নিউজিল্যান্ড (রান তাড়া) |
| মোট রান | ১৬৯/৮ (২০ ওভার) | ১৭৩/১ (১২.৫ ওভার) |
| সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক | মার্কো ইয়ানসেন (৫৫*) | ফিন অ্যালেন (১০০*) |
| পাওয়ারপ্লে স্কোর | ৪২/২ (৬ ওভার) | ৮৪/০ (৬ ওভার) |
| সেরা জুটি | ইয়ানসেন ও স্টাবস (৭৩ রান) | অ্যালেন ও সাইফার্ট (১০৮ রান) |
| ফলাফল | পরাজয় | ৯ উইকেটে জয়ী |
দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই ও ইয়ানসেনের রেকর্ড
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ৪২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে ৭৭ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল প্রোটিয়ারা। তবে ষষ্ঠ উইকেটে ক্রিস্টিয়ান স্টাবস ও মার্কো ইয়ানসেন ৪৭ বলে ৭৩ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াকু পুঁজি এনে দেন। বিশেষ করে মার্কো ইয়ানসেন ৩০ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় ৫৫ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৭ নম্বর বা তার নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে হাফ সেঞ্চুরি করার দ্বিতীয় কৃতিত্ব এটি (এর আগে ২০১০ সালে মাইক হাসি এই রেকর্ড গড়েছিলেন)। জিমি নিশামের এক ওভারেই ২২ রান তুলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৬৯ পর্যন্ত নিয়ে যান ইয়ানসেন।
কিউইদের উদ্বোধনী জুটির দাপট
১ ৭০ রানের লক্ষ্য আধুনিক টি-টুয়েন্টিতে খুব ছোট না হলেও অ্যালেন ও সাইফার্টের কাছে এটি ছিল স্রেফ তুচ্ছ। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারেই তারা ৮৪ রান যোগ করেন, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে রানের রেকর্ড। টিম সাইফার্ট ৩৩ বলে ৫৮ রান করে কাগিসো রাবাদার বলে বোল্ড হলেও ততক্ষণে নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এরপর রাচিন রবীন্দ্রকে (১১ বলে ১৩*) সাথে নিয়ে অ্যালেন বাকি পথটুকু অনায়াসেই পাড়ি দেন।
উপসংহার ও ফাইনাল ভাবনা
২০২১ সালের পর আবারো টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ব্ল্যাক ক্যাপসরা। পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা যেভাবে নকআউটে এসে ভেঙে পড়ল, তা তাদের ‘চোকার্স’ অপবাদকে যেন আরও একবার উসকে দিল। অন্যদিকে, ফিন অ্যালেনের এই বিধ্বংসী ফর্ম ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ইডেন গার্ডেনের এই জয় কিউইদের আত্মবিশ্বাসকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়।
