থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টের শিরোপা লড়াইয়ে আবারও স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ভারতের ছুড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে ৪৬ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। এর ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল ভারত ‘এ’ দল। ২০২৩ সালে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম আসরেও ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের মেয়েদের হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল তারা।
Table of Contents
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও ভারতের ইনিংস
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত ‘এ’ দল। তবে ইনিংসের শুরুতে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ভারতীয় ব্যাটাররা বেশ চাপে ছিলেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের লেগ স্পিনার ও অধিনায়ক ফাহিমা খাতুন বল হাতে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১ উইকেটে ৩২ রান। ফাহিমার ঘূর্ণিতে ১০ ওভার শেষে ৫৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ভারত।
তবে পঞ্চম উইকেটে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন রাধা যাদব ও তেজাল হাসাবনিস। তাদের গড়া ৬৯ রানের অনবদ্য জুটি ভারতকে সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেয়। রাধা যাদব ৩৬ রানে আউট হলেও তেজাল হাসাবনিস ৩৪ বলে ৫১ রানের এক বিধ্বংসী অপরাজিত ইনিংস খেলেন। শেষ ওভারে তেজালের একটি সহজ ক্যাচ মিস করা বাংলাদেশের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে ভারত।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়
১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ‘এ’ দল শুরুটা মন্দ করেনি। প্রথম ৬ ওভারে ৩৬ রান তুললেও ইশমা তানজিমের (৩) উইকেট হারায় তারা। তবে মিডল অর্ডারে ভারতের বোলারদের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের ইনিংস। ১০ ওভার শেষে সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৪৮ রান হলেও জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান রেট ক্রমেই আকাশচুম্বী হতে থাকে।
পরবর্তী ৫৫ বলে মাত্র ৪০ রান তুলতেই বাকি ৭টি উইকেট হারিয়ে ধূলিসাৎ হয় বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন। শামীমা সুলতানার ২০ এবং শারমিন সুলতানার ১৮ রান বাদে আর কেউ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। ভারতের লেগ স্পিনার প্রেমা রাওয়াত মাত্র ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৯.১ ওভারে মাত্র ৮৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
ফাইনাল ম্যাচের সারসংক্ষেপ
| বিভাগ | বিবরণ (ভারত ‘এ’ দল) | বিবরণ (বাংলাদেশ ‘এ’ দল) |
| মোট রান | ১৩৪/৭ (২০ ওভার) | ৮৮/১০ (১৯.১ ওভার) |
| সর্বোচ্চ ব্যাটার | তেজাল হাসাবনিস (৫১*) | শামীমা সুলতানা (২০) |
| সেরা বোলার | প্রেমা রাওয়াত (৩/১২) | ফাহিমা খাতুন (৪/২৫) |
| ম্যাচ সেরা | তেজাল হাসাবনিস | – |
| ফলাফল | ভারত ৪৬ রানে জয়ী | – |
হারের কারণ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
বাংলাদেশের হারের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে ব্যাটিং মন্থরতা এবং বড় জুটির অভাব। দ্বিতীয় উইকেটে শারমিন ও শামীমার গড়া ২৫ রানের জুটিই ছিল ইনিংসের সর্বোচ্চ। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিস এবং ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতা ভারতের রানকে ১৩০-এর গণ্ডি পার করতে সাহায্য করেছে। যদিও ফাহিমা খাতুনের ৪ উইকেট শিকার ব্যক্তিগতভাবে উজ্জ্বল ছিল, কিন্তু দলীয় প্রচেষ্টার অভাবে তা ম্লান হয়ে যায়।
টানা দুই আসরের ফাইনালে ভারতের কাছে পরাজিত হওয়া বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য বড় এক শিক্ষা। বিশেষ করে স্পিন বোলিং সামলানোর ক্ষেত্রে আরও উন্নতির অবকাশ রয়েছে। তবে এই টুর্নামেন্টে রানার্স-আপ হওয়াও এশিয়ার উদীয়মান ক্রিকেটে বাংলাদেশের মেয়েদের শক্ত অবস্থানেরই প্রমাণ দেয়।
