ফাঁকা রেজাল্ট শিটে আগাম স্বাক্ষর: প্রিসাইডিং অফিসার প্রত্যাহার

ঝিনাইদহ-৪ আসনের অন্তর্গত একটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পূর্বেই পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে ফাঁকা রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেছা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনের অভিযান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যখন কঠোর নিরাপত্তা ও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, ঠিক তখনই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের এই চিত্র সামনে এল। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রাত সাড়ে ৮টার দিকে সলিমুন্নেছা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসার জেসমিন আরা পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে ২৩টি শূন্য বা ফাঁকা রেজাল্ট শিটে আগাম স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার রিজওয়ানা নাহিদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহফুজ হোসেন। সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি বিশেষ দলের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর সংবলিত ওই ২৩টি ফাঁকা রেজাল্ট শিট জব্দ করা হয়।


ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণী

তথ্যের বিবরণবিস্তারিত তথ্য
নির্বাচনী এলাকাঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক)
কেন্দ্রের নামসলিমুন্নেছা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়
অভিযুক্ত কর্মকর্তাজেসমিন আরা (সহকারী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর)
জব্দকৃত আলামতপোলিং এজেন্ট স্বাক্ষরিত ২৩টি ফাঁকা রেজাল্ট শিট
উপস্থিত প্রশাসননির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সেনাবাহিনী
গৃহীত ব্যবস্থাপ্রিসাইডিং অফিসারকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার ও নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ

অভিযুক্ত ও প্রশাসনের বক্তব্য

ঘটনার শিকার প্রিসাইডিং অফিসার জেসমিন আরা তাঁর ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কাজের চাপ কমাতে বা “কাজ এগিয়ে রাখার সুবিধার্থে” তিনি পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, স্বাক্ষর করা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের এবং অন্যজন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পোলিং এজেন্ট ছিলেন।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা বিষয়টিকে ‘মারাত্মক ভুল’ ও নির্বাচনী বিধির চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তালেবের একজন পোলিং এজেন্ট যখন তাঁর নিয়োগপত্র জমা দিতে যান, তখনই এই অনিয়মটি ধরা পড়ে। সেই এজেন্টের অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রশাসন অভিযানে নামে এবং সত্যতা খুঁজে পায়।

রিটার্নিং অফিসারের কঠোর অবস্থান

ঝিনাইদহ জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. আব্দুল্লাহ মাসউদ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, “জেসমিন আরাকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেই কেন্দ্রে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিবর্তে নতুন একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই নতুন কর্মকর্তা তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এবং নতুন রেজাল্ট শিট সরবরাহ করা হয়েছে।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনী এলাকায় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে স্থানীয় সচেতন মহল সাধুবাদ জানালেও, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।