ফরিদপুর সেতুতে স্কুলব্যাগে লুকানো প্রাণঘাতী বোমা

ফরিদপুরের আশিমুজ্জামান সেতু এলাকায় এক ভয়াবহ নাশকতার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পেয়েছে জেলা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ। একটি স্কুলব্যাগের ভেতরে লুকিয়ে রাখা শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী বোমা উদ্ধার ও সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় কুমার নদীর পাড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। বালুর বস্তা দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রেখে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এটিইউ সূত্রে জানা গেছে, এটি ছিল একটি দূরনিয়ন্ত্রিত শক্তিশালী আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস), যা বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে সক্রিয় রাখা হয়েছিল।

এর আগে শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বোমাটি উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, আশিমুজ্জামান সেতুর ওপর জমা করে রাখা খড়ির গাদার ভেতরে একটি সন্দেহজনক বস্তু রয়েছে। খবর পাওয়ার পর শনিবার ভোর থেকেই সেনাবাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে খড়ির গাদার ভেতর থেকে একটি স্কুলব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগটি তল্লাশি করে ভেতরে টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে বস্তুটি সেতু এলাকা থেকে সরিয়ে আলিপুর সেতুর নিচে কুমার নদীর পাড়ে নেওয়া হয় এবং বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিতভাবে ঘিরে রাখা হয়। বিশেষজ্ঞ দল নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কেউ সেটির কাছাকাছি যাননি।

ফরিদপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমির হোসেন জানান, বস্তুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পুরো এলাকায় বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত রাখা হয়। পরে এটিইউ-এর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে।

এটিইউ-এর পুলিশ ইন্সপেক্টর শংকর কুমার ঘোষ বলেন, “উদ্ধার করা বোমাটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী। এটি রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালিত আইইডি এবং পাওয়ার সাপ্লাই সংযুক্ত ছিল। বিস্ফোরণের সময় এটি প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতায় উঠে যায়। জনবহুল এলাকায় এটি বিস্ফোরিত হলে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।”

নিচের টেবিলে উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো :

বিষয়তথ্য
উদ্ধারস্থলআশিমুজ্জামান সেতু এলাকা, ফরিদপুর
উদ্ধার সময়১০ জানুয়ারি, দুপুর ১২:৩০
বোমার ধরনরিমোট কন্ট্রোল আইইডি
বহন মাধ্যমস্কুলব্যাগ
নিষ্ক্রিয়করণ সময়১১ জানুয়ারি, সকাল ১০টা
নিষ্ক্রিয়করণ স্থানকুমার নদীর পাড়, গোয়ালচামট
সম্ভাব্য ঝুঁকিপ্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি

ঘটনাটি ঘিরে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই বোমা স্থাপন করেছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। তবে সময়োপযোগী ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সম্ভাব্য ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।