ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব থেকে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। রোববার সিআইডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিষয়টি মানিলন্ডারিং এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সম্ভাবনার দিক থেকে বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অভিযুক্ত ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চেক বইয়ে মোট উল্লেখিত লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১২৭ কোটি টাকার লেনদেন স্বাভাবিক নয় এবং এটি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থায়ন ও মানিলন্ডারিং-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।”
সিআইডি আরও জানায়, “মূল অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ সরবরাহকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং অস্ত্র সরবরাহে কোনো শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ফয়সাল করিম মাসুদের ব্যাংক লেনদেন এবং মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অস্বাভাবিক লেনদেন | ১২৭ কোটি টাকা |
| চেক বইয়ে মোট উল্লেখিত লেনদেন | ২১৮ কোটি টাকা |
| রাষ্ট্রীয় বাজেয়াপ্তি পদক্ষেপ | ৬৫ লাখ টাকা |
| গ্রেপ্তার আসামি | ১০ জন (বাবা, মা, স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক, সহযোগী ও ব্যবসায়ী) |
| দায় স্বীকার করেছেন | হুমায়ুন কবির, হাসি বেগম |
| অপর আসামি অবস্থান | রিমান্ডে / কারাগারে |
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ওসমান হাদির ওপর রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল থেকে গুলি চালানো হয়। আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ২২ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, যেখানে বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুর খবর আসে।
১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদের নামের সঙ্গে অচেনা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের পর দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অর্থায়নের সম্পর্কিত সকল প্রশ্নের সুষ্ঠু সমাধান হয়।
এ ঘটনায় সরকারের তৎপরতা এবং সিআইডির নিরপেক্ষ তদন্ত দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
