নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশের অভিযান
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার একটি বিশেষ টহল দল মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকায় অবস্থান করছিল। এসময় পঞ্চবটি থেকে কাশিপুরগামী সড়কে ৭-৮ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একত্রিত হতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলটি পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বাকিরা পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বরগুনা জেলার আমতলী থানার বাসিন্দা অলিউল্লাহ হাওলাদার (৩০) এবং জাকারিয়া হাওলাদার (২৮)। তারা বর্তমানে ফতুল্লা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
জব্দকৃত মালামালের তালিকা
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ডাকাতির সরঞ্জামসহ লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অলংকার উদ্ধার করা হয়। নিচে উদ্ধারকৃত মালামালের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
| উদ্ধারকৃত দ্রব্যের নাম | পরিমাণ/বিবরণ |
| নগদ অর্থ | ৮,০০,০০০ (আট লক্ষ) টাকা |
| স্বর্ণের চেইন | ৪.৪৪ গ্রাম |
| স্বর্ণের আংটি | ২.১৬ গ্রাম |
| স্বর্ণের কানের দুল | ৪০ পিস (৩৩.১২ গ্রাম) |
| দেশীয় অস্ত্র | সুইচ গিয়ার চাকু, চাপাতি, কাটার ও সাধারণ চাকু |
| অন্যান্য সরঞ্জাম | গ্যাস লাইটার ও অন্যান্য ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ |
ডাকাতির পরিকল্পনা ও আইনি ব্যবস্থা
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা পঞ্চবটি-কাশিপুর সড়কে চলাচলকারী মিশুক, ইজিবাইক ও সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ সাধারণ যাত্রীদের গতিরোধ করে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং ৩৯ গ্রামের বেশি স্বর্ণালংকার কোথা থেকে তারা সংগ্রহ করেছে বা কাদের কাছ থেকে লুটে নিয়েছে, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি তারা। পুলিশ ধারণা করছে, সাম্প্রতিক কোনো বড় ধরনের ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের মাধ্যমে এসব সম্পদ তারা সংগ্রহ করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, এই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে। এছাড়া পলাতক বাকি ৫-৬ জন সহযোগীকে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিল্পাঞ্চল ফতুল্লায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পুলিশের টহল তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
