রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মুনাফা-লোকসান চিত্র

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো একসময় বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এসব ব্যাংকের ঋণায়নে বহু বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিল্প খাতে নতুন ঋণ বিতরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি অনিয়ম, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ এখন চাপের মধ্যে রয়েছে।

সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংক তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে জনতা ব্যাংক বড় ধরনের লোকসানে রয়েছে। অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক বিশেষ সুবিধা ও নিয়ন্ত্রক ছাড়ের মাধ্যমে সীমিত মুনাফা দেখিয়েছে।

ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার সারসংক্ষেপ

ব্যাংকের নাম২০২৪ সালের ফলাফলসর্বশেষ বছরের ফলাফলখেলাপি ঋণ/বিশেষ অবস্থা
সোনালী ব্যাংক৯৮৮ কোটি টাকা মুনাফা১,৩১৩ কোটি টাকা মুনাফামূলধন ঘাটতি নেই, তুলনামূলকভাবে কম খেলাপি
জনতা ব্যাংক৩,০৬৬ কোটি টাকা লোকসান৩,৯৩১ কোটি টাকা লোকসানপ্রায় ৭০% ঋণ খেলাপি
অগ্রণী ব্যাংক৯২৫ কোটি টাকা লোকসান৫৮ কোটি টাকা মুনাফাপ্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা প্রভিশন ঘাটতি
রূপালী ব্যাংক১১.৩৯ কোটি টাকা মুনাফা৬.৮০ কোটি টাকা মুনাফাপ্রভিশন ঘাটতি ও বিশেষ সুবিধা নির্ভর

সোনালী ব্যাংকের অবস্থান

সোনালী ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো আর্থিক অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ৯৮৮ কোটি টাকা, যা পরবর্তী বছরে বেড়ে ১,৩১৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এ ব্যাংকের মুনাফার বড় অংশ এসেছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ থেকে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি বা নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি নেই। খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনাতেও এটি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে।

জনতা ব্যাংকের সংকট

জনতা ব্যাংক বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। বড় কয়েকটি কর্পোরেট গ্রাহকের ঋণ খেলাপিতে পরিণত হওয়ায় ব্যাংকটির লোকসান ক্রমাগত বাড়ছে। সর্বশেষ বছরে লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩,৯৩১ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। ব্যাংকটির প্রায় ৭০ শতাংশ ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর ফলে সুদ আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি আমানতের ওপর সুদ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের পরিস্থিতি

অগ্রণী ব্যাংক ২০২৪ সালে বড় লোকসানের পর সাম্প্রতিক বছরে ৫৮ কোটি টাকা মুনাফা দেখিয়েছে। তবে ব্যাংকটির প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এ ঘাটতি পূরণের পর মুনাফা হিসাব করার কথা থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধার কারণে তা সম্ভব হয়েছে।

রূপালী ব্যাংকও খেলাপি ঋণ ও আর্থিক চাপের মধ্যেও সীমিত মুনাফা দেখিয়েছে। ২০২৪ সালে মুনাফা ছিল ১১.৩৯ কোটি টাকা, যা পরবর্তী বছরে কমে ৬.৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই ব্যাংকটিও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশেষ ছাড়ের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংক ব্যতীত অন্যান্য ব্যাংকগুলো প্রভিশন ঘাটতি, খেলাপি ঋণ এবং আর্থিক চাপের কারণে সীমিত সক্ষমতার মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।