বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী রাষ্ট্রপতির আদেশে দেশের নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এই নিয়োগে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
গত মঙ্গলবার আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধান, ৯৫ অনুচ্ছেদ (১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতির পদে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এই নিয়োগ শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
Table of Contents
শিক্ষাজীবন ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা :
জুবায়ের রহমান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে এলএলএম সম্পন্ন করেন। তার শিক্ষাজীবনের এই সমৃদ্ধ পটভূমি তাকে বিচারব্যবস্থায় দক্ষ এবং সুপরিচিত একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তুলেছে।
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | প্রতিষ্ঠান |
| এলএলবি (অনার্স) | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| এলএলএম | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| আন্তর্জাতিক আইন এলএলএম | যুক্তরাজ্য |
আইনজীবী ও বিচারপতি হিসেবে কর্মজীবন :
জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৮৫ সালের ৩ মার্চ জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত হন। ১৯৯৭ সালের ১৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট পূর্ণ বিচারপতি হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হন।
| তারিখ | পদ ও দায়িত্ব |
| ৩ মার্চ ১৯৮৫ | জেলা আদালতের আইনজীবী |
| ১৭ মে ১৯৯৭ | হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী |
| ২৭ আগস্ট ২০০৩ | হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি |
| ২৭ আগস্ট ২০০৫ | হাইকোর্ট বিভাগের পূর্ণ বিচারপতি |
| ১৩ আগস্ট ২০২৪ | সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের বিচারপতি |
এই দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশে এবং বিদেশে বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে সংবিধান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং নাগরিক অধিকার বিষয়ক রায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ :
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
| দেশ ও স্থান | সাল / কর্মসূচি |
| বেলজিয়াম, ব্রাসেলস | ১৯৮৮ |
| কানাডা, প্রিন্স এডওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি | ১৯৯০ |
| মালয়েশিয়া, কুয়ালালামপুর | ২০০০, ২০০২, ২০০৬ |
| কানাডা, কুইবেক | ২০০১ |
| সিঙ্গাপুর | ২০০৭ |
| নেপাল | ২০১২ |
এই প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাকে আইন ও বিচারব্যবস্থায় বিশ্বমানের দৃষ্টিভঙ্গি দিতে সক্ষম করেছে, যা প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রভাব :
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার বিচারিক সততা, অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি, সংবিধান এবং আইনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়ে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর নেতৃত্বদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আইনি সংস্কৃতিকে আরও উন্নত এবং স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে।
