প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এই সন্ত্রাসী হামলায় দুটি সাংস্কৃতিক সংস্থার অফিসের দরজা ভাঙচুর, অফিস লুট, অগ্নিসংযোগ ও নানা ধরনের নাশকতার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম সোমবার দুপুরে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, “প্রথম আলো নিজে মামলা করেছে, তবে ডেইলি স্টার এখনও মামলা দায়ের করেনি। তারা তাদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করছে। পরে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করবেন।” জানা গেছে, প্রথম আলো মামলায় ৪০০–৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে থানা পুলিশ ১৩ জন, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) তিন জন এবং ডিবি একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।
গ্রেপ্তারের মধ্যে একজন নাইম (২৬) নামের যুবক রয়েছে, যার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, লুট করা এই অর্থ দিয়ে তিনি একটি মোবাইল ফোন ও একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। উদ্ধারকৃত মালামাল এবং নগদ অর্থ পুলিশ জব্দ করেছে।
এ ঘটনায় দেশজুড়ে সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এত বড় হামলা ঘটে গেলেও এত দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সজাগ ছিল না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “যে কোনো গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে করা এমন হামলা দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় ধাক্কা।”
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার দুইটি দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম। এই হামলা শুধু তাদের জন্যই নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। পুলিশ জানিয়েছে, যারা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, তাদের ধরার জন্য অভিযান চলবে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব তৈরি করা হচ্ছে যাতে আইন অনুযায়ী দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে এই হামলাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশাসনকে অবশ্যই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
