জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ৩:১৫ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মানহানিকর পোস্ট’ প্রকাশ ও প্রচারের অভিযোগে রাজশাহী থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম পলাশ চৌধুরী (৪৮)। তিনি রাজশাহী নগরের মালোপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব-৫ জানিয়েছে, শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোরে রাজশাহী নগরের রাণীবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে পলাশ চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী নুর মোহম্মদ (৩০) প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তার অভিযোগ, গত ১ জুলাই বিকেলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পান, কয়েকটি ফেসবুক আইডি, গ্রুপ, পেজ এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সহধর্মিণীকে নিয়ে মিথ্যা, অশ্লীল ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এসব পোস্ট ও বক্তব্য বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি করার উদ্দেশ্যও ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন, ২ জুলাই, নুর মোহম্মদ রাজধানীর গুলশান থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর গুলশান থানা-পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে রাজশাহীতে অবস্থানরত পলাশ চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর তার অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব-৫-এর রাজশাহী সদর কোম্পানির একটি দল অভিযান চালায় এবং তাকে গ্রেফতার করে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ চৌধুরী ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্যের পাশাপাশি অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে দেখার প্রক্রিয়া তদন্তের অংশ হিসেবে চলবে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
গ্রেফতারের পর পলাশ চৌধুরীকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গুলশান থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত পোস্টগুলোর উৎস, সেগুলো কারা তৈরি করেছে, কারা প্রথমে প্রকাশ করেছে এবং পরে কারা সেগুলো প্রচার বা ছড়িয়ে দিয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা আরও যাচাই করবেন, অভিযুক্তদের মধ্যে পারস্পরিক কোনো যোগাযোগ ছিল কি না এবং মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের মধ্যে কারও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় কি না। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট, গ্রুপ, পেজ ও চ্যানেলে প্রকাশিত কনটেন্টের তথ্য তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা, অশ্লীল বা মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কোনো কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অভিযোগের তদন্তে ডিজিটাল তথ্য ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা বা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই তিনি আইনগতভাবে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন—এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের চূড়ান্ত এখতিয়ার আদালতের।
এই মামলাতেও পলাশ চৌধুরীর গ্রেফতারকে তদন্তের ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপে অনলাইনে কথিত মানহানিকর কনটেন্ট প্রচারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, থাকলে তাদের ভূমিকা কী ছিল এবং অভিযোগের পেছনে কোনো সমন্বিত কার্যক্রম ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য