প্রচারণা শেষ, ভোটের প্রস্তুতি চূড়ান্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায়। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করা বাধ্যতামূলক। ফলে গত ২২ জানুয়ারি শুরু হওয়া প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণার অধ্যায় আজ শেষের পথে, আর দেশ প্রবেশ করছে নির্বাচনী নীরবতা ও চূড়ান্ত প্রস্তুতির পর্যায়ে।

নির্বাচন কমিশনের ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর ১৮ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, তাদের মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কেউ ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহের আগে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন না। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার শেষ করতে হবে। এই বিধান কার্যকর করতেই মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে প্রচারণা বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ রাখতে আইনের এই বিধান কঠোরভাবে মানা হচ্ছে। প্রচারণা বন্ধের পর কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। কমিশনের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মনিটরিং টিম সক্রিয় রাখার কথাও জানানো হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল হওয়ায় মোট আসনের সংখ্যা ৩০০ থেকে কমে ২৯৯-এ নেমে এসেছে।

এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। সব মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৪ জনে। এর মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও বহুমাত্রিক ও গতিশীল হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দলটির ২৯১ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

প্রার্থী সংখ্যার দিক থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দলটির ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জাতীয় পার্টির ১৯৮ জন প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে রয়েছেন। তুলনামূলকভাবে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী দিয়েছে, যাদের প্রতীক শাপলা কলি।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেও প্রতীকের বৈচিত্র্য চোখে পড়েছে। এর মধ্যে ফুটবল প্রতীক নিয়ে ৭৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন, যা ভোটারদের সামনে ভিন্নধর্মী পছন্দের সুযোগ তৈরি করেছে।

নির্বাচনের সামগ্রিক চিত্র ও প্রধান অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা সংক্ষেপে নিচের ছকে তুলে ধরা হলো—

দল/শ্রেণিপ্রতীকপ্রার্থীর সংখ্যা
বিএনপিধানের শীষ২৯১
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশহাতপাখা২৫৮
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীদাঁড়িপাল্লা২২৯
জাতীয় পার্টিলাঙ্গল১৯৮
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)শাপলা কলি৩২
স্বতন্ত্র (ফুটবল প্রতীক)ফুটবল৭৬
মোট প্রার্থী২,০৩৪

প্রচারণা পর্বের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে এখন দেশের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ভোটগ্রহণের শেষ প্রস্তুতিতে মনোযোগী। নির্বাচন কমিশনের মতে, এই নীরবতা পর্বের মূল লক্ষ্য হলো ভোটারদের শান্ত ও নির্ভীক পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও গ্%