বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বীমা খাতকেও আধুনিক ও ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে এক ধাপ এগিয়ে গেল প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের জন্য বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ প্রক্রিয়া আরও সহজতর, দ্রুত এবং ঝামেলামুক্ত করার উদ্দেশ্যে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি-র সাথে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে এখন থেকে প্রগ্রেসিভ লাইফের পলিসি গ্রাহকরা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রকেট এবং ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাপ নেক্সাসপে (NexusPay) ব্যবহার করে ঘরে বসেই প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে পারবেন।
Table of Contents
ডিজিটাল পেমেন্ট চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা
সোমবার (২৬ জানুয়ারি, ২০২৬) এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেবা সংক্রান্ত চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বীমা গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা এবং সশরীরে উপস্থিত না হয়েও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লেনদেনের সুবিধা নিশ্চিত করা। এতে একদিকে যেমন গ্রাহকের সময় ও যাতায়াত খরচ বাঁচবে, অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ে প্রিমিয়াম পরিশোধের মাধ্যমে পলিসি সচল রাখাও সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য:
| বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রধান অতিথি | বজলুর রশীদ এমবিই (চেয়ারম্যান, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স) |
| বিশেষ অতিথি | মো. শাহাদাত হোসাইন (ডিএমডি, ডাচ-বাংলা ব্যাংক) |
| সভাপতিত্ব করেন | মোহাম্মদ সাইদুল আমিন (সিইও, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স) |
| ডিজিটাল পার্টনার | ডাচ-বাংলা ব্যাংক (রকেট ও নেক্সাসপে অ্যাপ) |
| অন্যান্য কর্মকর্তা | আহমেদ শামছুল হুদা (ন্যাশনাল বিজনেস ম্যানেজার, রকেট) |
| সেবার সুবিধা | ২৪/৭ ঘরে বসে অনলাইন প্রিমিয়াম পেমেন্ট সুবিধা |
প্রিমিয়াম পরিশোধের নতুন দিগন্ত
বীমা খাতের সাধারণ একটি সমস্যা হলো গ্রাহকদের নির্দিষ্ট সময়ে কিস্তি বা প্রিমিয়াম জমা দিতে ব্যাংকে বা বীমা অফিসে যেতে হয়। অনেক সময় কর্মব্যস্ততার কারণে বা দূরত্বের কারণে কিস্তি জমা দিতে দেরি হয়, যার ফলে পলিসি ল্যাপস বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। রকেট ও নেক্সাসপে অ্যাপের এই নতুন সুবিধা সেই চিরচেনা সমস্যার স্থায়ী সমাধান দেবে। গ্রাহকেরা তাদের হাতের স্মার্টফোন ব্যবহার করেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে প্রগ্রেসিভ লাইফের চেয়ারম্যান বজলুর রশীদ এমবিই বলেন, “আমরা গ্রাহকসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মতো একটি শক্তিশালী ডিজিটাল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হওয়া আমাদের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার একটি বড় মাইলফলক।” অন্যদিকে, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ডিএমডি মো. শাহাদাত হোসাইন জানান, এই সেবার মাধ্যমে বীমা গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার সাথে প্রিমিয়াম জমা দিতে পারবেন।
রকেট ও নেক্সাসপে ব্যবহারের সুবিধাসমূহ:
১. সময় সাশ্রয়: ব্যাংকে যাওয়ার ঝামেলা নেই, ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হবে না।
২. স্বচ্ছ লেনদেন: প্রতিটি পেমেন্টের পর গ্রাহক তাৎক্ষণিক এসএমএস কনফার্মেশন পাবেন।
৩. নিরাপত্তা: ডিজিটাল গেটওয়ে ব্যবহারের ফলে অর্থের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত।
৪. অটোমেটেড আপডেট: অ্যাপে পেমেন্ট করার সাথে সাথে কোম্পানির সিস্টেমে তথ্য আপডেট হয়ে যাবে।
উপসংহার
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রগ্রেসিভ লাইফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মনে করেন, প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন শুধু কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিধিই বাড়াবে না, বরং বীমা শিল্পের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও আগ্রহ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে এই ধরণের উদ্ভাবনী উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
