যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ গোপন নথি ও ই–মেইল প্রকাশ করার পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী Jeffrey Epstein–এর নাম। প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, তাঁকে দেশটির প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর Pentagon–সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, Federal Bureau of Investigation (এফবিআই) ব্যবহৃত আরও কয়েকটি স্থাপনা নিয়েও বিনিয়োগ প্রস্তাব তাঁর কাছে পৌঁছেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ITV News–এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অবস্থিত প্রায় ৮৪ হাজার ৭১০ বর্গমিটার আয়তনের একটি কমপ্লেক্স এপস্টিনকে কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভবনটি পেন্টাগন থেকে মাত্র এক মাইল দূরে অবস্থিত এবং প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর বিশেষ চাহিদা পূরণে সক্ষম বলে বিনিয়োগ নথিতে উল্লেখ ছিল। প্রস্তাবিত মূল্য ধরা হয়েছিল ১১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। চুক্তি সম্পন্ন হলে এপস্টিন কার্যত মার্কিন সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সহমালিক ও ‘ল্যান্ডলর্ড’ হয়ে উঠতে পারতেন।
নথিতে আরও উঠে এসেছে, এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডেভিড স্টার্ন ২০১৫ সালে রিচমন্ড ও বাল্টিমোরে অবস্থিত এফবিআইয়ের দুটি ফিল্ড অফিস এবং একটি আদালত ভবন কেনার সম্ভাবনাও যাচাই করেছিলেন। এসব প্রস্তাব রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী জোনাথন ডি ফাসিটেলির মাধ্যমে প্রণয়ন করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
নিচের সারণিতে প্রস্তাবিত সম্পত্তিগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বছর | সম্পত্তির অবস্থান | ব্যবহারকারী সংস্থা | প্রস্তাবিত মূল্য | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ২০১৬ | আর্লিংটন, ভার্জিনিয়া | পেন্টাগন সংশ্লিষ্ট দপ্তর | ১১.৬ কোটি ডলার | ৮৪,৭১০ বর্গমিটার কমপ্লেক্স |
| ২০১৫ | রিচমন্ড | এফবিআই ফিল্ড অফিস | প্রকাশ হয়নি | বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই |
| ২০১৫ | বাল্টিমোর | এফবিআই ও আদালত ভবন | প্রকাশ হয়নি | ‘আকর্ষণীয় সম্পদ’ হিসেবে বর্ণিত |
যদিও এসব লেনদেন শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছিল—এমন অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবু একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধীর কাছে জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট স্থাপনা বিক্রির প্রস্তাব ওঠায় মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রকাশিত ই–মেইলগুলোর একটি মেমোতে আরও বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে—এপস্টিন নাকি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা Mossad–এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সেখানে বলা হয়, তিনি ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী Ehud Barak–এর ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন। নথি অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বারাক অন্তত ৩০ বার নিউইয়র্কে এপস্টিনের বাসভবনে গিয়েছিলেন।
এই তথ্যগুলো প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক প্রভাবের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত অপরাধের সীমা ছাড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
সব মিলিয়ে, প্রকাশিত নথিপত্র যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অবকাঠামো, রাজনৈতিক যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সম্পর্ক নিয়ে গভীর অনুসন্ধানের দাবি জোরালো করেছে।
