পেট্রলের আগুনে ঝলসে যাওয়া গ্রাম্য চিকিৎসক খোকনের জীবনাবসান

মৃত্যুর সাথে চার দিন পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সেই গ্রাম্য চিকিৎসক খোকন চন্দ্র দাস (৪৫)। গত ৩১ ডিসেম্বর বছরের শেষ রাতে একদল পৈশাচিক দুর্বৃত্তের বর্বরোচিত হামলায় তিনি গুরুতর আহত ও দগ্ধ হয়েছিলেন। আজ শনিবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের আবহের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ও বিচারহীনতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হামলার নৃশংসতা ও ঘটনার বিবরণ

ঘটনাটি ঘটে গত ৩১ ডিসেম্বর গভীর রাতে শরীয়তপুরের কনেশ্বর ইউনিয়নের কেউরভাঙ্গা এলাকায়। খোকন চন্দ্র দাস তাঁর নিজের মালিকানাধীন ওষুধের দোকান (ফার্মেসি) বন্ধ করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নির্জন স্থানে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁর পথরোধ করে। হামলাকারীরা প্রথমে তাঁর তলপেটে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে, যাতে তাঁর নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। এরপর তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে অত্যন্ত অমানবিক কায়দায় তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা তাঁর মুখমণ্ডল ও ডান হাত মারাত্মকভাবে পুড়িয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে খোকন পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দিলেও শেষ রক্ষা আর হলো না।

অভিযুক্তদের তালিকা ও আইনি পদক্ষেপ

এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও এলাকায় নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযুক্তের নামবয়সএলাকার অবস্থান
সোহাগ খান২৭ বছরকনেশ্বর এলাকা (প্রধান অভিযুক্ত)
রাব্বি মোল্যা২১ বছরকনেশ্বর এলাকা (সহযোগী)
পলাশ সরদার২৫ বছরকনেশ্বর এলাকা (সহযোগী)
মামলার ধারাদণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা মামলা) রূপান্তরিত হচ্ছে

পারিবারিক আর্তনাদ ও বিচার প্রার্থনা

নিহতের স্বজন প্রান্ত দাস জানিয়েছেন, খোকন চন্দ্র দাসের সাথে হামলাকারীদের পূর্বশত্রুতা ছিল না। স্রেফ ছিনতাই ও পাশবিক জিঘাংসার বশবর্তী হয়েই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, যারা একজন নিরীহ সেবককে এভাবে পুড়িয়ে মারতে পারে, সমাজে তাদের কোনো স্থান নেই। ডামুড্যা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে।

চিকিৎসক খোকন চন্দ্র দাসের এমন অকাল প্রয়াণ শরীয়তপুরের সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে। বছরের শুরুতে এমন একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সমাজ ও আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির চরম অবক্ষয় হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।