পুলিশের উপস্থিতিতেই ব্যবসায়ীর বাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ ও চাঁদাবাজি

চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকায় কোটি টাকা চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এক দুর্ধর্ষ অপরাধের ঘটনা ঘটিয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার সকালে চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের কর্ণধার ও সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে ১৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে মাস্কধারী সন্ত্রাসীরা। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ঘটনাস্থলের মাত্র ৫০ গজ দূরে ভারী অস্ত্রসহ পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও অপরাধীরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে পুলিশের ওপর নজরদারি চালিয়ে এই হামলা সম্পন্ন করে। এমনকি ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতে পারেন, যা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সাজ্জাদ বাহিনীর দৌরাত্ম্য

পুলিশের ধারণা, ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত এবং বর্তমানে বিদেশে পলাতক কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা এই হামলার মূল হোতা। প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই মুজিবুর রহমানের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাজ্জাদ বাহিনীর কারণে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামে সংঘটিত অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডে এই বাহিনীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

সন্ত্রাসী হামলা ও পুলিশের অবস্থানগত অসংগতি

বিষয়ের বিবরণঘটনার তথ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
হামলার সময়শুক্রবার সকাল ৭টা ২৪ মিনিট থেকে ৭টা ৩০ মিনিট।
ব্যবহৃত গাড়িনম্বর টেম্পার করা একটি সাদা রঙের নোহা মাইক্রোবাস।
সন্ত্রাসীদের সংখ্যামাস্ক পরিহিত মোট আটজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী।
পুলিশের ভূমিকাগুলির শব্দ পেলেও চার পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যাননি।
আক্রান্ত ব্যক্তিসাবেক এমপি মুজিবুর রহমান (দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ)।
সন্ত্রাসী গোষ্ঠীবিদেশের মাটিতে পলাতক সাজ্জাদ হোসেনের নিজস্ব বাহিনী।

নিখুঁত নজরদারি ও পলায়ন কৌশল

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সন্ত্রাসীরা পুলিশের অস্থায়ী চেকপোস্টের গতিবিধির ওপর আগে থেকেই নজর রাখছিল। বৃহস্পতিবার রাতে চেকপোস্টে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও ভোরের দিকে শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে পুলিশ সদস্যরা পাশের একটি স্কুলে অবস্থান নেন। ঠিক সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসীরা মাইক্রোবাসে করে এসে মুহূর্তের মধ্যে গুলিবর্ষণ করে বাকলিয়া এক্সেস রোড দিয়ে পালিয়ে যায়। অপরাধীরা পালিয়ে যাওয়ার জন্য ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করায় গাড়িটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভিকটিমের রহস্যময় নীরবতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

হামলার শিকার মুজিবুর রহমান চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ৫ আগস্টের পর থেকে গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন। বাসভবনে ১৫ রাউন্ড গুলির দাগ এবং জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, তিনি কোনো অপরাধ করেননি বিধায় তিনি আতঙ্কিত নন। অন্যদিকে, সিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র ‘ব্রাশফায়ার’ করার কঠোর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশের এই নির্লিপ্ততা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ডিবি পুলিশ ও সিএমপির একাধিক টিম এই চক্রটিকে ধরতে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।