পাথরঘাটায় কিশোরী ধর্ষণ: বাবা গ্রেপ্তার

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় এক মাত্র ১৫ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার নিজ বাবা গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কিশোরীর মা পাথরঘাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে কিশোরী নিজেও থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন, যেখানে তিনি বিস্তারিতভাবে তার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার অনুসারে, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে কিশোরীকে তার নিজ বাড়িতে দুই দফায় ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। এছাড়া জানা গেছে, ঘটনার পর কিশোরীকে জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধও সেবন করানো হয়েছিল।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি First আলোকে বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও প্রতিবেশি এক নারীর ওপর ধর্ষণের অভিযোগ শুনেছি। তবে তখন বিষয়টি স্থানীয়ভাবে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসা করা হয়েছিল।”

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মং চেনলা জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্তও সেইভাবে চলছে। অভিযুক্তকে আজ আদালতে হাজির করা হবে এবং কিশোরীকেও পরবর্তী নির্দেশনার জন্য আদালতে নেওয়া হবে।”

পুলিশি তথ্য ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিম্নরূপ:

তথ্যের ধরণবিবরণ
ভুক্তভোগী কিশোরীর বয়স১৫ বছর
স্থানপাথরঘাটা, বরগুনা
অভিযুক্তকিশোরীর বাবা
অভিযোগের ধরনধর্ষণ (দুই দফা), জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ প্রয়োগ
অভিযোগ দায়েরের তারিখমঙ্গলবার, সন্ধ্যায় (মা ও কিশোরীর মাধ্যমে)
গ্রেপ্তারের তারিখবুধবার রাত
তদন্তের ধরণপ্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন, স্পর্শকাতর বিষয় বিবেচনা করে তদন্ত চলছে
আদালতে হাজিরবৃহস্পতিবার (পুলিশের তথ্য অনুযায়ী)

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত কিশোরী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

স্থানীয়দের মতে, কিশোরীকে মানসিক ও সামাজিক সহায়তা প্রদান এবং অভিযুক্তকে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই ঘটনা দেশের শিশু সুরক্ষা আইন, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পারিবারিক নিরাপত্তার গুরুত্বকেও সামনে এনেছে। সমাজের দৃষ্টি এখন প্রয়োজন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দিকে, যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর পুনরায় না ঘটে।