পাঞ্জাবে প্রকাশ্যে আম আদমি নেতার হত্যাকাণ্ড

পাঞ্জাবের জলন্ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সকালে মডেল টাউন এলাকার একটি গুরুদ্বারের সামনে আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা লাকি ওবেরয়কে গুলি করে হত্যা করা হয়।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লাকি ওবেরয় গুরুদ্বারের বাইরে নিজের গাড়ি পার্ক করার সময় দুই চাকার একটি যান থেকে আসা অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এই আক্রমণে তার শরীরে মোট পাঁচটি গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

হত্যাকাণ্ডের সময় ও স্থান:

তারিখসময়স্থানঘটনা বিবরণ
৬ জানুয়ারি ২০২৬সকাল ৯টামডেল টাউন গুরুদ্বার, জলন্ধরদুই চাকার যানের থেকে গুলি চালানো হয়, ৫টি গুলি লাকি ওবেরয়ের শরীরে লাগে।

পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং আশপাশের মানুষের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।

লাকি ওবেরয়ের স্ত্রী পূর্বে আম আদমি পার্টির প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে।

বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা প্রতাপ সিং বাজওয়া বলেন, “রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। যদি ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও নিরাপদ নন, সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ থাকতে পারে?”

অন্যদিকে, বিজেপি জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা এবং শিরোমণি আকালি দলের নেতা বিক্রম সিং মজিথিয়াও পাঞ্জাব সরকারকে কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, “রাজ্য এখন গ্যাংস্টারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ প্রধানের ব্যর্থতার কারণে অপরাধীরা দিনদুপুরে এমন সাহস পাচ্ছে।”

ঘটনার পর পুরো মডেল টাউন এলাকা থমথমে পরিস্থিতিতে ভুগছে। স্থানীয়রা আতঙ্কিত, এবং স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আমরা স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং এবং আশপাশের বেসামরিক সাক্ষীদের তথ্য বিশ্লেষণ করছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

এই হত্যাকাণ্ডের কারণে পাঞ্জাব রাজ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করছে।