পাকিস্তান সেনা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও কৌশলগত শহর কান্দাহার-এ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যা পরবর্তীতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ দ্বারা সামাজিক মাধ্যমে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানান, পাকিস্তান বাধ্য হয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। খবর নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি দাবি করেছেন, অভিযানে এপর্যন্ত ১৩৩ জন আফগান তালেবান নিহত এবং ২০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে পোস্ট করেছেন, পাকিস্তান স্বতন্ত্র ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছে। তিনি লিখেছেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এখন তোমাদের সঙ্গে আমাদের প্রকাশ্য যুদ্ধ।”
Table of Contents
অভিযান সময়রেখা ও ঘটনাস্থল
কাবুলে আল জাজিরার সংবাদদাতা নাসের শাদিদ জানিয়েছেন, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে পাকিস্তানি বাহিনী প্রথম বোমা নিক্ষেপ করে। এরপর পুনরায় হামলা চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে কাবুল থেকে হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানি পক্ষের দাবি অনুযায়ী, অভিযানটি তালেবানদের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ছিল। আফগান সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সামরিক দ্বন্দ্ব এখনও ঘোষণা করা হয়নি, কিন্তু পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পোস্ট আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তানি অভিযানের প্রাথমিক ফলাফল (দাবি অনুসারে)
| শহর | নিহত তালেবান | আহত তালেবান | অভিযান সময় | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| কাবুল | ৭৫ | ১২০ | রাত ১:৫০ থেকে পুনরায় বোমা | হতাহতের নিশ্চিত তথ্য নেই |
| কান্দাহার | ৫৮ | ৮০ | রাতভর | বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি জানা যায়নি |
| মোট | ১৩৩ | ২০০+ | — | পাকিস্তান প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে |
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই পদক্ষেপকে ‘নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। পাকিস্তান আগেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু নিজের ধৈর্যের সীমা অতিক্রম হওয়ায় সরাসরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
আফগানিস্তানে তালেবান ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযান দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সামরিক বিশ্লেষণ
অভিযান পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে চালানো হয়েছে।
প্রাথমিক বোমা হামলা কাবুল ও কান্দাহারের কেন্দ্রীয় এলাকা লক্ষ্য করেছে।
পাকিস্তানি বাহিনী জানিয়েছে, তারা আফগান তালেবান এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করেছে।
এখনও স্বাধীনভাবে নিহত বা আহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তানি বাহিনীর পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।