পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘জিও টিভি’তে প্রচারিত সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘পাকিস্তানি আইডল’-এর মঞ্চে সম্প্রতি এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। অনুষ্ঠানটির বিশেষ পর্ব ‘ভালোবাসা এবং বন্ধুত্ব’-এ অতিথি বিচারক হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী দম্পতি বশীর আহমেদ ও মীনা বশীরের দুই যোগ্য উত্তরসূরি—হোমায়রা বশীর ও রাজা বশীর। উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বশীর আহমেদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।
করাচির স্টুডিওতে আভিজাত্যময় সংবর্ধনা
গত ২৮ জানুয়ারি করাচির বিখ্যাত ‘ফিল্ম ফ্যাক্টরি’ স্টুডিওতে এই বিশেষ পর্বটির দৃশ্য ধারণ করা হয়। হোমায়রা বশীর জানান, স্টুডিওতে প্রবেশের মুহূর্তটি ছিল রাজকীয়। তাঁদের স্বাগত জানাতে ওপর থেকে ফুলের পাপড়ি বর্ষণ করা হয়। উপমহাদেশের প্রখ্যাত গায়ক রাহাত ফতেহ আলী খান তাঁদের অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, “ওয়েলকাম টু বশীর আহমেদ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি”—যা একজন শিল্পীর সন্তানের জন্য ছিল পরম প্রাপ্তি। অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী আলমগীর হক, জেব বাঙ্গাশ এবং বিলাল মাকসুদ। জনপ্রিয় তারকা ফাওয়াদ খান এদিন উপস্থিত থাকতে না পারলেও অনুষ্ঠানটির আমেজ ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত।
সুরে সুরে স্মৃতির তর্পণ
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল বশীর আহমেদের অমর সৃষ্টিগুলোর পরিবেশনা। হোমায়রা ও রাজা বশীর তাঁদের বাবা ও মায়ের দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া ‘ওগো প্রিয়তমা’ (চলচ্চিত্র: মনের মানুষ) গানটি দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন। এরপর তাঁরা বশীর আহমেদের গাওয়া কালজয়ী উর্দু গানগুলোর একটি চমৎকার মেডলি উপস্থাপন করেন।
নিচে অনুষ্ঠানে পরিবেশিত গান ও অংশগ্রহণকারীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:
| বিষয়ের নাম | বিস্তারিত তথ্য |
| অনুষ্ঠানের নাম | পাকিস্তানি আইডল (বিশেষ পর্ব: ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব) |
| অতিথি বিচারক | হোমায়রা বশীর ও রাজা বশীর (বাংলাদেশ) |
| স্থায়ী বিচারক | রাহাত ফতেহ আলী খান, আলমগীর হক, জেব বাঙ্গাশ ও বিলাল মাকসুদ |
| পরিবেশিত বাংলা গান | ‘ওগো প্রিয়তমা’ (বশীর আহমেদ ও মীনা বশীর) |
| পরিবেশিত উর্দু গান | ‘হাম চালে চক্কর’, ‘ইয়ে সামা প্যায়ারা প্যায়ারা’, ‘তুমজো মিলে প্যায়ার মিলা’ |
| সম্প্রচারের তারিখ | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বিশ্ব ভালোবাসা দিবস) |
উত্তরসূরিদের অনুভূতি ও কিংবদন্তির উত্তরাধিকার
রাজা বশীর এই অভিজ্ঞতায় আপ্লুত হয়ে জানান, তাঁর বাবার গানগুলো কেবল বয়স্কদের কাছেই নয়, বরং বর্তমানের ‘জেন-জি’ প্রজন্মের কাছেও সমান জনপ্রিয়। তিনি লক্ষ্য করেছেন, নতুন প্রজন্মের প্রতিযোগীরাও বশীর আহমেদের সুরের জাদুতে আচ্ছন্ন। অন্যদিকে, হোমায়রা বশীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বিদেশের মাটিতে তাঁর বাবার প্রতি যে পরিমাণ সম্মান ও ভালোবাসা দেখানো হয়েছে, তা একজন সন্তান হিসেবে তাঁর সারা জীবন মনে থাকবে।
বশীর আহমেদ ১৯৩৯ সালে কলকাতার খিদিরপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬৪ সালে স্থায়ীভাবে ঢাকায় চলে আসেন। তবে ঢাকায় আসার আগেই তিনি উর্দু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। এই কিংবদন্তির সুর ও কণ্ঠের উত্তরাধিকার বহন করে হোমায়রা ও রাজা বশীর আবারও প্রমাণ করলেন যে, সংগীতের কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই। গত ১ ফেব্রুয়ারি তাঁরা দেশে ফিরেছেন এবং আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে জিও টিভিতে এই বিশেষ পর্বটি বিশ্বজুড়ে দর্শকরা দেখতে পাবেন।
