ইংরেজি নববর্ষ বরণ বা ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। সমুদ্র সৈকতে আগত লাখো পর্যটকের জানমালের সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কবার্তা। মঙ্গলবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সৈকত ও সংলগ্ন এলাকায় কঠোর নিয়মকানুন কার্যকর থাকবে।
প্রতি বছর থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০ হাজার পর্যটক সৈকতে অবস্থান করছেন, যা উৎসবের দিনগুলোতে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিশাল জনসমাগমে বিশৃঙ্খলা এড়াতে সৈকতের উন্মুক্ত স্থানে যেকোনো ধরনের কনসার্ট, নাচ-গান বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও জননিরাপত্তার স্বার্থে উন্মুক্ত মঞ্চে কোনো বড় আয়োজন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের জারি করা বিশেষ নির্দেশনাবলি
নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে জেলা পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ সমন্বিতভাবে কিছু নিয়মাবলি প্রণয়ন করেছে, যা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| নিয়ন্ত্রিত বিষয়ের ধরণ | নির্দেশনাবলি ও বিধিনিষেধের বিবরণ | সময়কাল |
| আলোকসজ্জা ও শব্দ | আতশবাজি, ফানুস উড়ানো ও পটকা ফাটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। | ৩১ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি |
| মদ ও নেশাজাত দ্রব্য | জেলার সকল মদের দোকান ও বার বন্ধ রাখতে হবে। | ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা – ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা |
| যানবাহন চলাচল | বেপরোয়া বাইক চালানো ও উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো দণ্ডনীয় অপরাধ। | ৩১ ডিসেম্বর রাত |
| নারীদের সুরক্ষা | ইভটিজিং ও পর্যটকদের উত্যক্তকারী রোধে বিশেষ টহল। | সার্বক্ষণিক |
| হোটেল নিরাপত্তা | হোটেলগুলোতে ইনডোর অনুষ্ঠান ও আগতদের তথ্য ডিএসবি-কে প্রদান। | ৩১ ডিসেম্বর রাত |
| গুজব প্রতিরোধ | সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানো যাবে না। | সার্বক্ষণিক |
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থায়ী তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট) স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা পুলিশের বিশেষ নজরদারিতে ২টি মোবাইল টিম, ৭টি টহল টিম এবং ৪টি মোটরসাইকেল টিম সক্রিয় রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা নাশকতা চালানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানিয়েছেন, পর্যটন শহরে আগত কোনো মেহমান যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সৈকতে বিশেষ পোশাকে এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে পর্যটকদের টুরিস্ট পুলিশের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে তারা সাধুবাদ জানান। বড় কোনো উন্মুক্ত অনুষ্ঠান না থাকলেও ইনডোর প্রোগ্রামগুলো পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে এবং কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজিত হবে। সম্মিলিত এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে কক্সবাজারের নববর্ষ বরণ হবে নিরাপদ ও আনন্দময়।
