একটা সময় তাঁকে মনে করা হতো ফুটবলের পরবর্তী বড় ‘ওয়ান্ডারকিড’। শৈশবে লা মাসিয়ায় বেড়ে ওঠা, বার্সেলোনায় থাকার সুবাদে মেসি-ইনিয়েস্তা-জাভিদের সান্নিধ্য, আর প্যারিসে নেইমার-এমবাপ্পেদের সাথে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়া—জাভি সিমন্সের ক্যারিয়ারের প্রোফাইলটা বরাবরই তারকাসমৃদ্ধ। তবে ৫ কোটি ১৮ লক্ষ পাউন্ডের বিনিময়ে গত আগস্টে আরবি লাইপজিগ থেকে টটেনহ্যাম হটস্পারে আসার পর শুরুর সময়টা তাঁর জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। প্রিমিয়ার লিগের গতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে ধুঁকছিলেন এই ডাচ মিডফিল্ডার। কিন্তু অন্ধকার কাটিয়ে তিনি এখন স্পার্স শিবিরের নতুন প্রাণশক্তি।
ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু ও ভিলা পার্কের সেই রাত
১০ জানুয়ারি অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে এফএ কাপের ম্যাচটি ছিল সিমন্সের জন্য এক বড় টার্নিং পয়েন্ট। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা স্পার্সকে যখন নিজেদের সমর্থকরাই দুয়ো দিচ্ছিলেন, তখন সিমন্স বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে নেন। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর খেলার ধরনে এক অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। লা মাসিয়ার ব্যাকরণ মেনে খেলা ফুটবলারের মধ্যে দেখা যায় এক দুর্দান্ত ‘স্ট্রিট ফুটবলার’ সুলভ মানসিকতা। যদিও ম্যাচটি টটেনহ্যাম ২-১ ব্যবধানে হারে, কিন্তু ওই রাতেই ক্লাব এবং সমর্থকরা প্রথমবারের মতো প্রকৃত জাভি সিমন্সকে চিনতে শুরু করে।
নিচে গত ছয় ম্যাচে জাভি সিমন্সের পারফরম্যান্সের একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| সূচক (Statistics) | প্রথম ২৩ ম্যাচ | শেষ ৬ ম্যাচ |
| সুযোগ তৈরি (Chances Created) | ২৪টি | ১৭টি |
| শটের হার | তুলনামূলক কম | উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি |
| গোলের প্রভাব | অনিয়মিত | অত্যন্ত কার্যকর |
| পজিশন | বিভিন্ন | লেফট ১০ / সেন্ট্রাল মিডফিল্ড |
ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে নেতৃত্ব ও দৃঢ়তা
গত রবিবার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ২-২ ড্র করা ম্যাচটিতে সিমন্স ছিলেন অনন্য। প্রথম হাফে দল ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়লে তিনি কেবল মাঠেই লড়াই করেননি, বরং ডিফেন্স এবং অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর ওপর চিৎকার করে দলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে তাঁর এই নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা কোচ থমাস ফ্রাঙ্ককেও মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে ডোমিনিক সোলাঙ্কে চোট কাটিয়ে ফেরায় সিমন্স তাঁর পছন্দের নম্বর ৯ স্ট্রাইকারকে ফিরে পেয়েছেন, যা তাঁর গোল বানানোর দক্ষতাকে আরও শাণিত করেছে।
পর্দার আড়ালের প্রস্তুতি ও জীবনধারা
সফলতার পেছনে সিমন্সের রয়েছে এক বিশাল সাপোর্ট টিম। তাঁর নিজের ব্যক্তিগত ট্রেইনার, নিউট্রিশনিস্ট, শেফ এমনকি একজন ‘মাইন্ডসেট কোচ’ও রয়েছেন। তিনি নিয়মিত মেডিটেশন ও ভিজ্যুয়ালাইজেশন করেন এবং অবসরে দর্শনশাস্ত্র পড়তে ভালোবাসেন। শুরুতে ক্লাবের হোটেলে থাকলেও বর্তমানে তিনি কেনারি ওয়ার্ফে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন, যা তাঁর মানসিক স্থিরতায় সহায়তা করছে।
সাতটি ভাষায় দক্ষ এই ফুটবলার কেবল মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও স্পার্স সংস্কৃতির সাথে মিশে যেতে মরিয়া। সম্প্রতি ক্লাবের কিংবদন্তি লেডলি কিং-এর সাথে টটেনহ্যাম শহর ঘুরে দেখা এবং স্থানীয় চ্যারিটি কার্যক্রমে অংশ নেওয়া তাঁর সদিচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ। শনিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে নামার আগে সিমন্স এখন টটেনহ্যামের সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস।
