নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সংগীতশিল্পী স্ত্রী সোনিয়ার পরকীয়া থেকে জন্ম নেওয়া জটিল সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত সুমন খলিফার মৃত্যুর কারণ হয়েছে—এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। এক চাঞ্চল্যকর তদন্তে উঠে এসেছে, সোনিয়া ও তার প্রেমিক ইউসুফ মিলে বহু আগেই সুমনকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় আরও চার ব্যক্তি।
Table of Contents
পরকীয়ার বিষয়টি জানার পর থেকেই উত্তেজনা শুরু
নিহত সুমন ছিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়ার বাসিন্দা। স্ত্রীসহ সিদ্ধিরগঞ্জে বসবাস করতেন। সোনিয়া সংগীতশিল্পী হওয়ায় নিয়মিত স্টেজ শো করতেন। এসব শোয়ের সূত্রে তার পরিচয় হয় ইউসুফের সঙ্গে। সম্পর্ক ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ হয় এবং স্বামী বিষয়টি টের পেলে দাম্পত্যে অশান্তি নেমে আসে।
সোনিয়া বুঝতে পারেন, সুমন জীবিত থাকলে তাদের সম্পর্ক টিকবে না। ইউসুফও একই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায়। এরপর দু’জনে মিলে হত্যার ‘চূড়ান্ত পরিকল্পনা’ সাজায়।
৩০ নভেম্বরের রাত: পরিকল্পনার বাস্তবায়ন
সেই রাতে সোনিয়া গানের অনুষ্ঠানে গেলে সুমনও সেখানে উপস্থিত ছিল। সুযোগ বুঝে তাকে বাইরে ডেকে নেয় ইউসুফ। আগে থেকেই থাকা সহযোগীরা সিএনজি নিয়ে অপেক্ষা করছিল। সুমনকে জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে তারা গাড়িতে তোলে এবং চর কাশীপুরে নিয়ে যায়।
সেখানেই শুরু হয় নির্মম হত্যাযজ্ঞ। ধারালো চাপাতি দিয়ে সুমনের মাথা, ঘাড় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপানো হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে জটিল কাহিনি
১ ডিসেম্বর সকালে মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। কললিস্ট পরীক্ষা, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল লোকেশন—সব মিলিয়ে পুলিশের কাছে পরিষ্কার হয় এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
প্রথমে আটক হয় ইউসুফ। তার জবানবন্দিতেই উঠে আসে পুরো ঘটনার গল্প—পরকীয়া, ঈর্ষা, মতবিরোধ, আর শেষ পর্যন্ত হত্যা।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা—সোনিয়া, ইউসুফ, আব্দুর রহমান, বিল্লাল, আলমগীর ও নান্নু—প্রত্যেকে হত্যায় ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করেছেন।
সামাজিক বিশ্লেষণ: কেন বাড়ছে পারিবারিক হত্যাকাণ্ড?
পরিবার–সমাজ বিশেষজ্ঞরা বলেন, দাম্পত্যে আস্থা কমে গেলে বা সম্পর্কের ভাঙন দেখা দিলে অনেকেই সমস্যার সমাধান করেন যোগাযোগ বা পরামর্শের মাধ্যমে। কিন্তু যখন ব্যক্তি ভুল পথ বেছে নেয়—পরকীয়া, প্রতারণা, গোপন সম্পর্ক—তখন পরিস্থিতি হত্যা পর্যন্ত গড়ায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বাড়ছে। এর পেছনে রয়েছে—
দ্রুত সম্পর্ক তৈরি ও ভাঙন,
সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়,
অপরাধ সংঘঠনে সহায়তাকারী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা,
পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতি।
শেষ কথা
সুমন খলিফার মৃত্যু শুধু একটি দাম্পত্য সমস্যা নয়—এটি দেখায় কীভাবে পরকীয়া ও লোভ একটি পরিবার, একটি জীবন, এমনকি একটি সমাজকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। পুলিশ বলছে, তারা আরও তদন্ত করছে—পেছনে আরও কেউ থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
