পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে চাঁদার দাবিতে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে জেলা বিএনপির নেতা মো. জয়নাল আবেদীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান এ নোটিশ প্রদান করেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, চাঁদার দাবিতে মারধরের অভিযোগ দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তির পরিপন্থী। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সংগঠন তা নজরে আনে। নোটিশ পাওয়ার পর অভিযুক্ত নেতাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী বাজারের ফল ব্যবসায়ী নির্মল দাস (৫০) অভিযোগ করেন, মো. জয়নাল আবেদীন তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মল দাসের কলেজপড়ুয়া ছেলে ঋত্বিক দাসকে মাদকের সঙ্গে জড়িত বলে নানা অভিযোগ ও হয়রানি করা হয়।
ঘটনার প্রধান দিকসমূহ:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযোগকারী | নির্মল দাস (৫০), সুবিদখালী বাজারের ফল ব্যবসায়ী |
| অভিযুক্ত | মো. জয়নাল আবেদীন, মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক |
| অভিযোগের ধরন | চাঁদার দাবি, মারধর ও হয়রানি |
| দাবিকৃত অর্থ | ৫,০০,০০০ টাকা |
| সম্পর্কিত পরিবার | ঋত্বিক দাস, অভিযোগে উল্লেখিত ছেলে |
| নোটিশ প্রদানকারী | মজিবুর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক |
| জবাবের সময়সীমা | ৪৮ ঘণ্টা |
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান বলেন, “গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নজরে এসেছে। অভিযুক্ত নেতা যদি জবাব দিতে ব্যর্থ হন বা জবাব সন্তোষজনক না হয়, তবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মির্জাগঞ্জে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও, সাম্প্রতিক এ ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, এমন ঘটনায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ প্রভাবিত হতে পারে। সমাজের সচেতন অংশ মনে করছেন, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দলীয় নেতৃত্বের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এদিকে, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেকোনো প্রকার অভিযোগের ক্ষেত্রে দল ন্যায্য ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করবে এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে।
