নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর আংশিক) নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের দিলদার মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ তথা স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমানের গাড়িবহরে হামলা ও গুলিবর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নির্বাচনী এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
Table of Contents
ঘটনার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমানের ভাষ্যমতে, বিকেলে কাবিলপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ শেষে মাগরিবের নামাজ আদায় করে তিনি পরবর্তী কর্মসূচির উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে দিলদার মার্কেটের কাছে পৌঁছালে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির কাচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেলেও কাজী মফিজুর ও তাঁর সফরসঙ্গীরা অলৌকিকভাবে রক্ষা পান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, হঠাৎ একদল যুবক গাড়িবহরে চড়াও হয় এবং বিকট শব্দ শোনা যায়। তবে সেই শব্দ গুলির নাকি ককটেল বিস্ফোরণের, তা নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা রয়েছে। ঘটনার পরপরই কাজী মফিজুরের সমর্থকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং সেনবাগ বাজারের থানার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও রাজনৈতিক সমীকরণ
এই হামলার জন্য কাজী মফিজুর রহমান সরাসরি বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের কর্মীদের দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, বিএনপির মূল প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা হামলার দাবি তুলেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সেনবাগ উপজেলা পরিষদ এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা তাঁর গাড়িতে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পেতেই বিদ্রোহী প্রার্থী নিজের গাড়িতে নিজে হামলা করিয়েছেন।
প্রার্থীদের পরিচিতি ও বর্তমান পরিস্থিতি একনজরে:
| বিবরণ | স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) | বিএনপির মূল প্রার্থী |
| প্রার্থীর নাম | কাজী মো. মফিজুর রহমান | জয়নুল আবদিন ফারুক |
| প্রতীক | কাপ-পিরিচ | ধানের শীষ |
| পূর্ব পদবি | সাবেক সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা বিএনপি | কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা |
| বর্তমান অবস্থান | দল থেকে বহিষ্কৃত | দলীয় মনোনীত প্রার্থী |
| অভিযোগ | গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও হামলা | ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা |
প্রশাসনের বক্তব্য ও তদন্ত
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে গুলি বর্ষণের বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। ওসি আরও জানান, সেনবাগ থানার মোড়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে জয়নুল আবদিন ফারুকের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে।
জনমনে উদ্বেগ
বিএনপির সাবেক এই প্রভাবশালী নেতার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নোয়াখালী-২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিয়েছে। দলীয় কোন্দল এখন সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ।
