নোয়াখালীতে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ৬ যাত্রী নিহত

নোয়াখালীর কবিরহাটে ট্রাকচাপায় ছয়জন যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৩টার দিকে শহরের কবিরহাট-বসুরহাট সড়কের আলিয়া মাদ্রাসার সামনের সড়কে। নিহতদের মধ্যে অটোরিকশায় থাকা তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকি তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালের চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়, ফলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়।”

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। ওসি শাহীন মিয়া বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ পরে জানানো হবে।”

দুর্ঘটনার মূল তথ্য

তথ্যবিবরণ
স্থানকবিরহাট-বসুরহাট সড়ক, নোয়াখালী
সময়৪ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৩টা
যানবাহনসিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং একটি ট্রাক
নিহত৬ জন (প্রাথমিকভাবে ৩ জন ঘটনাস্থলেই, ৩ জন হাসপাতালে)
আহত৩ জন (হাসপাতালে চিকিৎসাধীন)
উদ্ধারকারী সংস্থাফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ
তদন্তকারী সংস্থাকবিরহাট থানা পুলিশ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে অটোরিকশার যাত্রীরা তাত্ক্ষণিকভাবে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে জনতার ভিড় জমে যায় এবং স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধারে সহায়তা করেন। আহতদের দ্রুত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অটোরিকশা এবং বড় যানবাহনের সংঘর্ষের ফলে সড়কে নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে না মানলে এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে সতর্কতার পাশাপাশি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার কারণে ওই এলাকায় অস্থায়ী যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আহতদের তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা প্রদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত না হওয়ায় পুলিশ নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। তাছাড়া, দুর্ঘটনার পর সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে ভাবনা শুরু করেছে।

এ দুর্ঘটনা আবারও সচেতন করে দিয়েছে যে, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন মানা এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না মেনে চললে মানবজীবনের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।