নোট অব ডিসেন্টে বিএনপির স্বৈরাচারের চিন্তাভাবনা ধরা পড়েছে: তাহের

জুলাই সনদে বিএনপি যে বিষয়গুলোতে নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করেছে, তা থেকে দলের মধ্যে স্বৈরাচারের চিন্তাভাবনা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি রোববার, ২ নভেম্বর, রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদের কালো থাবা ও আগামীর বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এই মন্তব্য করেন।

তাহের বলেন, “বিএনপি যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেগুলো থেকে বোঝা যায় তাদের মধ্যে স্বৈরাচার হওয়ার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। মনে হচ্ছে তারা ভেতরে ভেতরে স্বৈরাচারী হওয়ার চেষ্টা করছে, যার কারণে আমরা যেই স্বৈরাচারের পথ বন্ধ করতে চেয়েছিলাম, তারা তা করতে দিচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি আজ কী নিয়ে লড়াই করছে? তারা মাসের পর মাস আমাদের সঙ্গে এক হয়ে ৩১টি দল মিলিত হয়ে সংস্কারের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বিএনপিও এতে অংশ নিয়েছে এবং সনদে স্বাক্ষর করেছে। আমি ও সালাহউদ্দিন সাহেব একসাথে ছিলাম। স্বাক্ষর করার দিনও আমি ও ফখরুল সাহেব পাশাপাশি ছিলাম। উনারা স্বেচ্ছায়, প্রস্তুত হয়ে স্বাক্ষর করেছেন; কোনো জোরাজুরি ছিল না। তাদের চেহারায় কোনো মলিন ভাব ছিল না, কলম কাঁপছে এমনটা দেখিনি। হঠাৎ এক রাতে তারা যা স্বপ্ন দেখেছে, সকালে উঠে উল্টাপাল্টা বলছেন।”

জামায়াতের নায়েবে আমির শীর্ষ নেতা তাহের বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সংস্কারকে বাংলাদেশের উন্নয়নমুখী গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য মনে করি। সংস্কার ছাড়া প্রধান উপদেষ্টা শূন্য। কারো চাপে মাথা নত করি না। কোনো দলকে খুশি করার জন্য কাজ করি না; আমাদের কাজ হলো জাতিকে খুশি করা।”

তিনি আরও যোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেগুলো কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব। তাহেরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, জামায়াত রাজনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে জোরদার অবস্থান নিচ্ছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নোট অব ডিসেন্টের ঘটনা শুধু মতের পার্থক্য প্রকাশ করে না, বরং অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও স্বার্থের দ্বন্দ্বেরও প্রতিফলন ঘটায়। তবে তাহেরের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং স্বচ্ছ নেতৃত্ব অপরিহার্য।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা এই মন্তব্যকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখেছেন। তারা মনে করেন, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।