নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি ঘোষণা দিয়েছেন, গত সপ্তাহে জেন-জি বিক্ষোভ চলাকালে সংঘটিত অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা কোনোভাবেই দোষীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, “এসব সহিংসতা দেশের বিরুদ্ধে এক ধরনের অপরাধমূলক কাজ। সরকার নিশ্চিত করবে, এ ধরনের ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে কঠোর বিচার কার্যকর করা হবে।”
রবিবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় স্থাপনা, সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংসের যে ঘটনা ঘটেছে, তার দায় কেউ এড়িয়ে যেতে পারবে না। দেশের জনগণ নিরাপত্তা ও শান্তি চায়। আমরা সেই শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, সহিংসতায় হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোরভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি সুশীলা কার্কির প্রথম বড় ঘোষণা। তিনি বলেন, “আমাদের সরকারের রোডম্যাপ স্পষ্ট। প্রথমত, সহিংসতার শিকার মানুষদের পাশে দাঁড়ানো; দ্বিতীয়ত, আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা; এবং তৃতীয়ত, সময়মতো নির্বাচন আয়োজন।”
তিনি আরও আশ্বস্ত করেছেন, আগামী ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কার্কি বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তার আগে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে যারা যুক্ত, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি এই ঘোষণা নেপালের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলন দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তবে সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় সরকার এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।
