খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই নভেম্বর ২০২৫, ৪:৩৮ পিএম

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। বাড়ির আঙিনায় খেলা করার সময় পরিবারের সবার অলক্ষ্যে পুকুরে পড়ে ইমরান মিয়া নামের আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই অকাল মৃত্যুতে কান্দিউড়া ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে বাবা হারানো এই শিশুটিকে হারিয়ে মা আলেহা আক্তার এখন দিশেহারা।
Table of Contents
গত ১১ নভেম্বর, মঙ্গলবার দুপুরে জালালপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশু ইমরান প্রতিদিনের মতোই বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে সে বাড়ির পাশের পুকুরের কিনারে চলে যায় এবং অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়।
বেশ কিছুক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে তাকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশী ও স্বজনরা এগিয়ে আসেন। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়। যেহেতু এটি একটি দুর্ঘটনা এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ ছিল না, তাই ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া মেনে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
| মৃত শিশুর নাম | ইমরান মিয়া। |
| বয়স | ২ বছর ৬ মাস (আড়াই বছর)। |
| পিতা ও মাতা | মৃত জুয়েল মিয়া ও আলেহা আক্তার। |
| স্থান | জালালপুর গ্রাম, কান্দিউড়া ইউনিয়ন, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা। |
| তারিখ | ১১ নভেম্বর ২০২৫। |
| দুর্ঘটনার ধরন | পুকুরে ডুবে মৃত্যু। |
| আইনি পদক্ষেপ | অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের। |
বাংলাদেশে শিশুদের অপমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পুকুরে ডুবে যাওয়া। বিশেষ করে গ্রামঞ্চলে বাড়ির খুব কাছেই উন্মুক্ত জলাশয় বা পুকুর থাকায় শিশুরা সবসময়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকে। ইমরান মিয়ার এই মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করে দেয়:
বেষ্টনী তৈরি: বাড়ির আশেপাশে পুকুর থাকলে সেখানে বাঁশের বেড়া বা জাল দিয়ে বেষ্টনী তৈরি করা জরুরি।
নিবিড় পর্যবেক্ষণ: ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ঘরের বাইরে খেলার সময় সবসময় একজন বয়স্ক মানুষের নজরদারিতে রাখা উচিত।
সচেতনতা বৃদ্ধি: স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উচিত জলাশয়ের নিরাপত্তা নিয়ে গ্রামীণ মায়েদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।
ইমরানের অকাল প্রস্থান আবারও মনে করিয়ে দিল যে, সামান্য অসতর্কতা কীভাবে একটি সাজানো সংসারকে তছনছ করে দিতে পারে। শোকাতুর পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।
মন্তব্য