নূরুল হাসানের টর্নেডো ইনিংসে ধূমকেতুকে হারিয়ে ফাইনালে দুর্বার

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ এক অবিশ্বাস্য ক্রিকেটীয় রোমাঞ্চের সাক্ষী হলো দর্শকরা। যখন মনে হচ্ছিল পরাজয় কেবল সময়ের ব্যাপার, ঠিক তখনই রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন নূরুল হাসান সোহান। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং তান্ডবে ধূমকেতু একাদশের নিশ্চিত জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। প্রায় অসম্ভব এক সমীকরণ মিলিয়ে ২ উইকেটের এক অবিস্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে দুর্বার, যা তাদের ফাইনালের পথে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে।

ধূমকেতুর মাঝারি সংগ্রহ ও বোলিং দাপট

টসে জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে জাতীয় দলের একঝাঁক তারকা নিয়ে গড়া ধূমকেতু একাদশ শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে। লিটন দাসের ৩৭ বলে ৪৩ রানের ইনিংসটি ছিল দলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ। তবে শেষ দিকে মেহেদী হাসানের ২৭ বলে ৩১ রান এবং সাইফের ২০ বলে ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৫ রানের একটি লড়াকু পুঁজি পায় ধূমকেতু। দুর্বারের বোলারদের মধ্যে হাসান মাহমুদ ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট নিয়ে রানের গতি টেনে ধরার চেষ্টা করেন।

নিচে ম্যাচের উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্সের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:

বিভাগখেলোয়াড়ের নামপারফরম্যান্স
সর্বোচ্চ রান (ধূমকেতু)লিটন দাস৪৩ (৩৭ বল)
সেরা বোলার (ধূমকেতু)মেহেদী হাসান৪/১১ (৪ ওভার)
ম্যাচ জয়ী ইনিংস (দুর্বার)নূরুল হাসান সোহান৭৬* (৪৪ বল)
সেরা পার্টনারশিপসোহান ও সাইফউদ্দিন৪১ রান
ফলাফলদুর্বার ২ উইকেটে জয়ী৩ বল হাতে রেখে

খাদের কিনারা থেকে দুর্বারের ঘুরে দাঁড়ানো

১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দুর্বার। ধূমকেতুর অফস্পিনার মেহেদী হাসানের ঘূর্ণি জাদুতে মাত্র ৮১ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। মেহেদী তাঁর ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে দুর্বারের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে মাঠের গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের অনেকেই দুর্বারের হার নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন।

নূরুল হাসানের সেই মহাকাব্যিক তান্ডব

সপ্তম উইকেটে সাইফউদ্দিনের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়েন নূরুল হাসান। তবে ১৮তম ওভারে সাইফউদ্দিন আউট হয়ে গেলে জয়ের সমীকরণ দাঁড়ায় ১২ বলে ৩৬ রান। ক্রিজের অন্য প্রান্তে স্বীকৃত কোনো ব্যাটসম্যান না থাকায় পুরো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন সোহান। ১৯তম ওভারে জাতীয় দলের সতীর্থ বোলার শরীফুল ইসলামের ওপর চড়াও হন তিনি। সেই ওভারে ৪টি দানবীয় ছক্কাসহ একাই ২৬ রান সংগ্রহ করেন সোহান। শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় বাকি রান তুলে নিয়ে ৩ বল হাতে রেখেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ৪৪ বলের ইনিংসে সোহান ৪টি চার ও ৬টি ছক্কার সাহায্যে দৃষ্টিনন্দন ৭৬ রান করেন।

সমীকরণ ও ফাইনালের হাতছানি

এই নাটকীয় জয়ের ফলে ফাইনালের লড়াই এখন বেশ জমে উঠেছে। যদি পরবর্তী ম্যাচে আকবর আলীর দল ‘দুরন্ত’ বড় ব্যবধানে জয় না পায়, তবে এই দুই দলই (দুর্বার ও ধূমকেতু) আগামীকালের মেগা ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হবে। নূরুল হাসানের এই ইনিংসটি ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘকাল অন্যতম সেরা ‘ম্যাচ ফিনিশিং’ উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।