বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও ১৪ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। দেশের ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এই ডলার সংগ্রহ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংক এ ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি রয়েছে। এই অবস্থায় রপ্তানিকারক এবং প্রবাসী আয় সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ডলারের বাজারদর স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে গত জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনা শুরু করে। তিনি উল্লেখ করেন, এ উদ্যোগের ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং বাজারে অস্বাভাবিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে থাকছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ২৬৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে।
সর্বশেষ এই ডলার কেনা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ (এফএক্স) নিলাম কমিটির অধীনে মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে। নিলামে প্রতি মার্কিন ডলারের দর নির্ধারিত ছিল ১২২ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সার মধ্যে। এই পদ্ধতিতে একাধিক দরে ডলার কেনা হয়, যা বাজারের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৩ জুলাই ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রতি ডলার ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ করা হয়। একই দরে ১৫ জুলাই আরও ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার কেনা হয়। এরপর ২৩ জুলাই প্রতি ডলার ১২১ টাকা ৯৫ পয়সা দরে এক কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ ছাড়া ৭, ১০, ১৪ ও ২৮ আগস্ট, ২, ৪, ৯, ১৫ ও ২২ সেপ্টেম্বর, ৬, ৯ ও ২৪ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ৯ ডিসেম্বর বিভিন্ন দরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ক্রয় কার্যক্রমের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে ডলারের দর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া রোধ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ডলার কেনার এই ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয়কারীরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। একই সঙ্গে বাজারে ডলারের দরে একটি ভারসাম্য বজায় থাকছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতেও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
