নির্বাচন প্রস্তুতি: ঢাকা ও দেশের ব্যস্ততা চিত্র

ভোটের আগেই রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরে এক ব্যস্ত ও অদ্ভুত চিত্র দেখা যাচ্ছে। মিরপুরের একটি পোশাক কারখানার কর্মী তাজুল ইসলাম মঙ্গলবার সকাল থেকেই নিজের গ্রামের বাড়ি তাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে মহাখালী বাস টার্মিনালে পৌঁছার পর সিট পেতে তাকে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি জানান, “কারখানা বন্ধ থাকার কারণে পরিবারের সঙ্গে গ্রামে যাচ্ছি। বহু বছর ভোট দিতে পারিনি, এবার নিজের ভোট দিতে চাই।”

সরকারি নির্দেশনায় মঙ্গলবার দেশের শিল্প-কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে বুধ ও বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি থাকায়, এবং শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ঢাকার শিল্পাঞ্চল ও আশেপাশের শহরগুলোতে দীর্ঘ ছুটির প্রস্তুতি তীব্রভাবে বেড়েছে। এর ফলে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঢাকার পান্থপথ এলাকার বাসিন্দা শিরিন সুলতানা বলেন, “দোকানদাররা গ্রামে চলে গেছে, গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ। তাই বাড়তি কেনাকাটা করেছি।” শপিংমল ও বাজারও বন্ধ হওয়ার আগে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

নিম্নে নির্বাচনের দিন বিভিন্ন সেবা সীমিত বা বন্ধ থাকবে, তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

সেবাসীমাবদ্ধতা / বন্ধের সময়কালমন্তব্য
মোবাইল ব্যাংকিং৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত ১০,০০০ টাকার বেশি লেনদেন বন্ধবিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট সেবা বন্ধ
দোকানপাট ও শপিংমল১২-১৩ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার)পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান ও সবজি বাজার খোলা থাকবে
যান চলাচলমোটরসাইকেল: ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত; পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ: ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টাজরুরি সেবা ও বিমানবন্দর যানবাহন ছাড়া সব বন্ধ
পর্যটন কেন্দ্রনির্বাচনী এলাকায় ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪:৩০ পর্যন্তপূর্ব নির্ধারিত প্যাকেজ বন্ধ, পরের দিন থেকে কার্যক্রম চালু

এর পাশাপাশি, নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যাংক গ্রাহকরা দৈনিক এক লাখ টাকার বেশি নগদ লেনদেন করতে পারবেন না। এই পদক্ষেপ মূলত অবৈধ অর্থ লেনদেন রোধ এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে।

জরুরি সেবা যথারীতি সচল থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, ডাক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত চলবে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

নির্বাচনকালীন সময়ে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদেশগামী যাত্রী, সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং জরুরি সেবা ছাড়া অন্য কেউ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। এছাড়া, বাজার ও ট্রান্সপোর্ট সেবায় সাময়িকভাবে সরবরাহ কমে যেতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা সতর্ক রয়েছেন।