টিভি উপস্থাপক ও সাংবাদিক জিল্লুর রহমান বলেছেন, বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশে শিগগির কোনো নির্বাচন তিনি দেখছেন না। যে যেভাবেই ব্যাখ্যা দিক না কেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনমুখী নয় বলে তিনি মনে করেন। বরং সামনে আরও অস্থিরতা, বড় জনসমাগম ও অপ্রত্যাশিত ঘটনাপ্রবাহ দেখা যেতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এখন এমন একটি সময় পার করছে, যেখানে ‘বিপ্লবী সরকার’-এর দাবিও জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি যে তৈরি হবে, তার পূর্বাভাস তিনি অনেক আগেই দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবুও অনেকে এখনো নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী—এমন বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এত কিছুর মধ্যেও আরও অনেক কিছু ঘটবে। কখন, কী কারণে লাখ লাখ মানুষ ঢাকায় আসবে—কোনটা শোকের, কোনটা আনন্দের—সেই বিশ্লেষণে না গিয়েও বলছি, বাস্তবতা হলো আমি নির্বাচন দেখি না।”
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে জিল্লুর রহমান বলেন, কোনো মৃত্যু কখনোই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিটি মৃত্যু বেদনাদায়ক, শোকাবহ ও দুর্ভাগ্যজনক। কে কত সম্মান পেল, কার জানাজা কত বড় হলো, রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা হলো কি না—এসব প্রতীকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ পর্যন্ত পরিবারে নেমে আসা শোক ও যন্ত্রণাকে লাঘব করতে পারে না। রাষ্ট্র যত কথাই বলুক, বাস্তবে কতটা দায়িত্ব নেয় বা কতটা কথা রাখে—সে নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যায়।
তিনি আরও বলেন, সত্য কথা বলার ঝুঁকি আছে। অনেকেই নিজের পছন্দের বাইরে কোনো বক্তব্য শুনতে চান না। রাজনৈতিক আলোচনা করতে গিয়ে তার নিজের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে তার বক্তব্য ও লেখালেখিতে ধারাবাহিকতার ঘাটতি নেই বলেই তিনি দাবি করেন। গত কয়েক বছর ধরে যা বলেছেন, তার অনেক কিছুই নানা রূপে বাস্তবে ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জিল্লুর রহমান বলেন, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, প্রত্যেকের অবদানই মূল্যবান। বিশেষ করে আবু সাঈদের সাহসী ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে সেই প্রতিরোধ না হলে অভ্যুত্থান আদৌ সেই রূপ নিত কি না—তা বড় প্রশ্ন। সমাজ হিসেবে আমরা তাদের জন্য কতটা করতে পেরেছি, সেটাও ভাবার বিষয়।
সবশেষে তিনি বলেন, এখন নানা রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী কথায় কথায় আক্রমণ করে। অতীতে যা অন্যায় হয়েছে, তা যেমন বলা দরকার, তেমনি বর্তমানের অন্যায়কেও অন্যায় বলতে হবে। যারা নিজেদের অধিকারের কথা বলতে সাহস পায় না, তারাই সব দায় অন্যের ঘাড়ে চাপায়। একসময় যারা নীরব ছিলেন, আজ তারাই বড় বড় কথা বলছেন—এই বৈপরীত্যও তিনি তীব্রভাবে তুলে ধরেন।
