রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত একটি মাদরাসা থেকে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ৯ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, শিশুটির মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আইনানুগ প্রক্রিয়া চলছে।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে শিশুটির পরিবারকে হস্তান্তর করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময়টি দিনের কোনো এক সময়ে ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মাদরাসা ও আশপাশের এলাকাবাসীর কাছে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয়রা মাদরাসার আশপাশে ভিড় তৈরি করে এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী (ডিবি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয় থানার পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু কালের কণ্ঠকে বলেন, “খবর পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে ডিবি ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ আশপাশের লোকজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আমরা মৃতু্যর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রাখব।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শিশুটির মৃত্যু সংবাদে পুরো এলাকা শোক ও দুঃখে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী এখনো ঘটনার সঠিক কারণ জানতে আগ্রহী। মাদরাসার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কেন এত ছোট শিশুর ওপর নজরদারি যথেষ্ট ছিল না।
পুলিশ বলেছে, মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানানো হবে। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসারে, প্রয়োজনে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দায়-দায়িত্বও যাচাই করা হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষ সতর্ক হয়ে মাদরাসা সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সরকারের ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
