নির্বাচন সামনে, অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সহিংসতা ও অস্ত্রবাজির ঘটনা বাড়তে থাকায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রামে নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন এবং একজন নিহত হন। রাজধানীর পুরান ঢাকায় দিনের বেলায় তারিক সাইফ মামুন নামে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতেও অস্ত্রবাজি ও গুলির ঘটনা ঘটছে।

এই প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র প্রবেশ ঠেকানো, অতীতে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধী চক্র দমনে জোর দিয়েছে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি। তিনি বলেন, ঘোষণা দিয়ে পুরস্কার দেওয়ার পরও ফল আসেনি, তাই সব ইউনিটকে নীরবে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়লে নির্বাচনি পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। সীমান্তপথে অস্ত্র প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হওয়ায় এবং থানাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া বহু অস্ত্র এখনও অপরাধীদের হাতে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও যৌথবাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ১১২ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়েছে। ভোলাসহ উপকূলীয় এলাকায় ছয় মাসে ৭০ জন সন্ত্রাসী ও ৬১ জন দুষ্কৃতকারী আটক করে ৩৪টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজান থেকে পাঁচজন অস্ত্রধারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পল্লবীর যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলায়ও কয়েকজন অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে পুলিশের সূত্র জানায়, একবার অস্ত্র হাতছাড়া হলে উদ্ধার কঠিন হয়ে পড়ে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, এখনও ১ হাজার ৩৪২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৮৭ রাউন্ড গোলাবারুদ বেহাত রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের পর ৪৬০টি থানা ও ১১৪টি ফাঁড়ি থেকে লুট হয় ৫ হাজার ৭৫৩টি অস্ত্র ও ৬ লাখ ৫১ হাজার আট রাউন্ড গোলাবারুদ।

পূর্বতন আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা সতর্ক করে বলেন, লুট হওয়া এসব অস্ত্র নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় এখনো লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় অপরাধ ও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নজরদারি ও যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।


জিলাইভ/টিএসএন