দেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে চরম হতাশা ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, নির্বাচনের বর্তমান প্রেক্ষাপট এতটাই সহিংস হয়ে উঠেছে যে, এখন আর আদর্শ বা ভোটের লড়াই নয়, বরং ক্যাডার ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মারামারি করতে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভীতিহীন নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চেয়েছিলাম যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাতে পারবেন এবং ভোটাররা কোনো চাপ ছাড়াই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাচনের আগে যেখানে সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার কথা ছিল, সেখানে আমরা দেখছি কেবল সন্ত্রাস ও ভীতি প্রদর্শনের মহড়া।”
ব্যারিস্টার আনিসুল তাঁর বক্তব্যে নিজের এবং তাঁর সমর্থকদের ওপর হওয়া নজিরবিহীন হামলার তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে প্রতিপক্ষরা তাঁর বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং তাঁর সক্রিয় কর্মীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন, “আমাকে সশরীরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে যাতে আমি নির্বাচনে অংশ না নিই। কিন্তু আমি পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, হুমকি-ধমকি দিয়ে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরানো যাবে না।”
নির্বাচনী পরিবেশ ও জাতীয় পার্টির ওপর হামলার সংক্ষিপ্ত চিত্র
| প্রধান অভিযোগের খাত | ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও প্রভাব |
| ব্যক্তিগত হামলা | বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা থেকে সরে যাওয়ার হুমকি। |
| সাংগঠনিক সংকট | মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের গুম ও এলাকা ত্যাগে বাধ্য করা। |
| জুলাই বিপ্লব বিতর্ক | দলের ভূমিকা নিয়ে অপপ্রচার ও জনগণের কাছে ভুল বার্তা প্রদান। |
| প্রশাসনের ভূমিকা | নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগের অভাব। |
| চূড়ান্ত ঘোষণা | প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচনে অনড় অবস্থান। |
সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জাতীয় পার্টির ভূমিকা নিয়েও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি বিশেষ মহল প্রচার করছে যে জাতীয় পার্টি জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ছিল, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, জাতীয় পার্টিই সর্বপ্রথম সংসদে এবং সংসদের বাইরে জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে কথা বলেছে। অথচ এখন রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে কিছু পক্ষ সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে তাঁদের ওপর ‘মব জাস্টিস’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি নির্বাচন কমিশনকে বর্তমান অরাজকতা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সন্ত্রাসীদের দমন করা না হয়, তবে এই নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হবে। জাতীয় পার্টির এই শীর্ষ নেতা স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁরা সহিংসতা চান না, তবে আক্রান্ত হলে তা প্রতিহত করার শক্তি তাঁদের রয়েছে।
