ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সকল প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের বিস্তারিত রিটার্ন দাখিলের জন্য রিটার্নিং অফিসারদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্দেশ দিয়েছে। এটি নির্বাচনী স্বচ্ছতা, প্রার্থীদের দায়বদ্ধতা এবং ভোটারদের নৈতিক আস্থা বজায় রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এ এস এম ইকবাল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে সমস্ত রিটার্নিং অফিসারকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৪৪(গ) অনুযায়ী নির্বাচিত প্রার্থীদের নামের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থীকে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন জমা দিতে হবে। এই রিটার্নে নির্বাচনী প্রচারণা, সভা-সমাবেশ, বিজ্ঞাপন, প্রচার সামগ্রী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ থাকতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য সম্পর্কিত তথ্য সংবলিত গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইসি কর্তৃক জারি করা পরিপত্র-১৮ অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসাররা যথাসময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যয়ের রিটার্ন গ্রহণ এবং যাচাই করার দায়িত্বে থাকবেন।
নির্ধারিত সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দাখিলকৃত রিটার্নের তথ্য ২৫ মার্চ ২০২৬ তার মধ্যে ইসির কাছে পাঠাতে হবে। ইসি এই তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচনী ব্যয়ের পর্যালোচনা করবে এবং যদি কোন প্রার্থী সময়মতো বা সঠিক তথ্য প্রদান না করে, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নির্বাচনী ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়ার সহজবোধ্যতার জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নির্বাচন | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ |
| গেজেট প্রকাশের তারিখ | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| বিধান | গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২, ধারা ৪৪(গ) |
| রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা | নির্বাচিত প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে |
| দাখিলকৃত তথ্য প্রেরণের শেষ তারিখ | ২৫ মার্চ ২০২৬ |
| দাখিলকৃত তথ্যের বিষয়বস্তু | নির্বাচনী প্রচারণা, সভা-সমাবেশ, বিজ্ঞাপন ও প্রচার খরচ |
| প্রক্রিয়ার রেফারেন্স | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিপত্র-১৮ |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার | সকল রিটার্নিং অফিসার |
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ প্রার্থীদের মধ্যে আর্থিক স্বচ্ছতা, সততা এবং দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এছাড়া, এটি ভোটারদেরও নিশ্চিত করবে যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া কোনোভাবেই অনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়নি। প্রতিটি প্রার্থীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক ও বিস্তারিত তথ্য দাখিল করতে হবে, যা নির্বাচনী ফলাফল এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ধরনের পদক্ষেপ জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের আস্থার ভিত্তি রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
