দেশের বীমা খাতের শীর্ষতম প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি’র ২০২৫ সালের ব্যবসায়িক সাফল্য উদযাপন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য বর্ষ সমাপনী পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫) নরসিংদীর পাঁচদোনায় অবস্থিত জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র ‘ড্রীম হলিডে পার্ক’-এ এই বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির সম্মানীত চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন এবং সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজিম উদ্দিন।
দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বৃহত্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট ও নরসিংদী জোনের বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৬ হাজার উন্নয়ন কর্মকর্তা ও মাঠকর্মী অংশগ্রহণ করেন। সভার শুরুতে বি-বাড়িয়া ও সিলেট এরিয়া প্রধান মফিজুল ইসলাম কোম্পানির চেয়ারম্যানকে আন্তরিক ফুলেল অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানের এক বিশেষ পর্যায়ে গ্রাহক সেবার অনন্য নজির হিসেবে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার বীমা দাবির চেক সরাসরি গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দ্রুততম সময়ে এই দাবি পরিশোধ ন্যাশনাল লাইফের প্রতি গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ও মূল তথ্যাদি নিচের সারণিতে সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করা হলো:
ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স বর্ষ সমাপনী সভার মূল বৈশিষ্ট্য
| বিষয়বস্তু | বিস্তারিত বিবরণ |
| আয়োজনের তারিখ | ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ |
| ভেন্যু বা স্থান | ড্রিম হলিডে পার্ক, নরসিংদী |
| অংশগ্রহণকারী জোন | ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট ও নরসিংদী এরিয়া |
| উপস্থিত জনবল | প্রায় ৬,০০০ উন্নয়ন কর্মকর্তা ও কর্মী |
| বীমা দাবি পরিশোধ | ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা (তৎক্ষণাৎ হস্তান্তর) |
| মোট বীমা গ্রাহক | বর্তমানে ৭২ লক্ষ ছাড়িয়েছে |
| ভবিষ্যৎ রূপকল্প | আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ঘরে ঘরে বীমা সেবা |
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ন্যাশনাল লাইফের উত্তরোত্তর উন্নতির মূল কারিগর হলেন এর দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী। তিনি আরও বলেন, “জনসাধারণের মাঝে ন্যাশনাল লাইফের যে আকাশচুম্বী গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, তা আমাদের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ফসল। আমরা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ন্যাশনাল লাইফের পতাকা ওড়ানোর স্বপ্ন দেখছি।” তিনি কর্মীদের নিয়মিত নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহের মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক ভিত আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মো. কাজিম উদ্দিন কোম্পানির গত পাঁচ বছরের ব্যবসায়িক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, “বর্তমানে আমাদের গ্রাহক সংখ্যা ৭২ লক্ষে উন্নীত হয়েছে। ন্যাশনাল লাইফের আর্থিক সক্ষমতা এখন এতটাই দৃঢ় যে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে আমরা বীমা দাবি পরিশোধে সক্ষম।” তিনি গর্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে বীমা খাত আর অবহেলিত পেশা নয়, বরং এটি তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং ক্যারিয়ার হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে বীমার আওতায় আনার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রাও ঘোষণা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীর চন্দ্র দাস এফসিএ, ডিএমডি মো. আবুল কাসেম এবং তাকাফুল কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী জিএম হেলাল উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশেষ বক্তব্য রাখেন। তাঁরা কোম্পানির এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট বীমা সেবা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
