নয় মাস পর আওয়ামী লীগের তিন নেতার জামিন

প্রায় নয় মাস কারাবাসের পর রাজনৈতিক মামলায় জামিন পেয়েছেন বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জেবুন্নেছা আফরোজসহ আরও দুই নেতা। একই আদেশে বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক থাকা, তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাব, আসামিদের স্থায়ী ঠিকানা ও সামাজিক অবস্থান, এবং পলাতক হওয়ার আশঙ্কা কম থাকার বিষয়গুলো তুলে ধরে জামিন আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগের গুরুত্ব, মামলার বহুমাত্রিকতা এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বার্থে জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেন।

বরিশাল সদর থানার সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মো. হুমায়ুন কবির জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক আসামিকে নির্দিষ্ট অঙ্কের মুচলেকা ও জামিননামা দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি তদন্ত চলাকালে সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রভাবিত না করা এবং প্রয়োজনে আদালতে হাজিরা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তারা কারামুক্ত হবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকাস্থ নিজ বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী সময়ে তাকে বরিশালের অন্তত ছয়টি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় নাশকতা, সরকারি কাজে বাধাদান, জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন এবং রাজনৈতিক সহিংসতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলেন। অপর দুই নেতাকেও পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়, যা মূলত ‘জুলাই আন্দোলন’-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দায়ের করা হয়েছিল।

নিম্নে জামিনপ্রাপ্তদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উপস্থাপন করা হলো—

নামরাজনৈতিক পরিচয়সংশ্লিষ্ট পদ
জেবুন্নেছা আফরোজবরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগসহ-সভাপতি; সাবেক সংসদ সদস্য, বরিশাল সদর
মাহমুদুল হক খান মামুনবরিশাল মহানগর যুবলীগযুগ্ম আহ্বায়ক
জসিম উদ্দিনবরিশাল মহানগর ছাত্রলীগসাবেক সভাপতি; সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা পরিষদ

আইনজীবীদের মতে, দীর্ঘ সময় আটক থাকার পর জামিন প্রাপ্তি বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক ধাপ। তবে মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনি জটিলতা অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী তিন নেতার জামিন বরিশাল মহানগর ও সদর উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করতে পারে। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রস্তুতিতে এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি রাজনৈতিক মহলেও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষিত হবে।