নবীনগরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের বাড়িখলা গ্রামে পবিত্র কোরআন শরীফে আগুন দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে বাড়িখলা মধ্যপাড়া বহুমুখী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম বাইজিদ আহমেদ (৩২), যিনি স্থানীয় খোকা মেম্বারের ছেলে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে বাইজিদ অতর্কিতে মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি মাদ্রাসার আলমারি থেকে পবিত্র কোরআন শরীফের কয়েকটি কপি বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। এই ঘটনাটি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা টের পেয়ে দ্রুত তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ অবমাননার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত উত্তেজিত মানুষ সেখানে জড়ো হয় এবং বাইজিদকে গণপিটুনি দেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে নবীনগর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় বাইজিদকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। পুলিশ তাকে প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, বাইজিদ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন। এর আগেও তিনি পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নিয়ে বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার কারণে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই যুবককে মারধর করেছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয়দের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।

জিলাইভ/টিএসএন