রংপুরের কাউনিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে সন্তান জন্ম দিয়েছে এক কিশোরী। অবশেষে উপায় না পেয়ে নবজাতক কন্যা সন্তানকে কোলে নিয়ে সন্তানের পিতৃপরিচয় ও স্ত্রীর দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন ওই কিশোরী।
শুক্রবার (১৬ জুন) সকাল থেকে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের শিবু কামারপাড়া গ্রামের আপন চন্দ্র বর্মণের বাড়িতে অবস্থান করছে। আপন চন্দ্র বর্মণ ওই গ্রামের অবিনাশ চন্দ্র বর্মণের ছেলে। তিনি স্থানীয় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, জন্মের পর বাবা ভারতে চলে যান। মা মানসিক ভারসাম্যহীন। সাড়ে তিন বছর আগে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আপন চন্দ্র বর্মণের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সুযোগে আপন চন্দ্র বর্মণ বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আপন একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি আগে বুঝতে পারিনি। পরে আপনকে বিষয়টি জানালে সে বিষয়টি অস্বীকার করেন।
ধর্ষণের ফলে সন্তান জন্ম দিয়েছে এক কিশোরী , প্রেমিকের বাড়িতে কিশোরীর অনশন

ওই কিশোরী জানায়, আমি সন্তানের পিতৃপরিচয় চাই। আমার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এ সমাজে কিভাবে সন্তানের পরিচয় দিবো। আমার কী হবে। আপন আমাকে বিয়ের কথা বলে শুধু কালক্ষেপণ করেছে। স্ত্রী হিসেবে মেনে না নিলে আমার মৃত্যু ছাড়া কোনো পথ নেই।
কুর্শা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আব্দুল মান্নান বলেন, শুক্রবার রাতে ওই কিশোরী বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিল। পরে আপনের বোন মেয়েটি ও নবজাতক সন্তানকে ঘরে নিয়ে যায়। ছেলে-মেয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। সমাধান না হলে আইনি ব্যবস্থার পরামর্শ দেওয়া হবে।
আপনের বাবা অবিনাশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, আমার কোনো আপত্তি নেই। মেয়েটি যে সন্তানকে নিয়ে এসেছে। সেটা যে আমার ছেলের তার প্রমাণ কী? প্রমাণ দিতে পারলে আমি সামাজিকভাবে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেব। মেয়েটি যেহেতু একটি সন্তানকে নিয়ে বৃষ্টিতে আমার বাড়িতে এসেছে তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের ঘরে আশ্রয় দিয়েছি। তবে ঘটনা জানার পর থেকে তার ছেলে বাড়িতে আসেনি।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।