বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃণমূল থেকে উঠে আসা এবং সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া এক বিরল ব্যক্তিত্বের নাম মিজানুর রহমান মিনু। যার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে, আজ তিনি রাষ্ট্রের অন্যতম নীতিনির্ধারক অর্থাৎ পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। স্বল্প সময়ে মানুষের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলার এক জাদুকরী প্রতিভা রয়েছে তাঁর মধ্যে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাজশাহীর সাধারণ মানুষের কাছে তিনি কেবল একজন নেতা নন, বরং ভরসার আশ্রয়স্থল ‘মিনু ভাই’ হিসেবে সুপরিচিত।
Table of Contents
ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক উত্থান
১৯৫৮ সালের ৭ জানুয়ারি রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান মিনু। তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি হয় ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজে পড়ার সময়, যেখানে তিনি ছাত্র সংসদের সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন ‘জাগোদল’ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আদর্শে উজ্জীবিত হন। দলের কঠিন সময়ে বাইসাইকেলে চড়ে গ্রাম থেকে গ্রামে সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করেছেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ এবং হামলা-মামলার শিকার হলেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এই লড়াকু নেতা।
রেকর্ড গড়া জনপ্রতিনিধি
মিজানুর রহমান মিনুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সফলতার মুকুটে রয়েছে একাধিক উজ্জ্বল পালক। ১৯৯১ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রথম সরাসরি ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন, যা তাঁকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ মেয়রের স্বীকৃতি দেয়। এরপর তিনি আরও দুইবার নির্বাচিত হয়ে একটানা ১৭ বছর রাজশাহীর নগরপিতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মিজানুর রহমান মিনুর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মাইলফলকসমূহ:
| ক্ষেত্র | অর্জন ও বিবরণ |
| জন্ম ও শিক্ষা | ১৯৫৮ সাল; রাজশাহী কলেজ থেকে ছাত্ররাজনীতির সূচনা। |
| সর্বকনিষ্ঠ মেয়র | ১৯৯১ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। |
| মেয়রের মেয়াদকাল | টানা ১৭ বছর (রাজশাহী সিটির ইতিহাসে দীর্ঘতম)। |
| সংসদ সদস্য | ২০০১ সালে রেকর্ড ভোটে জয়ী এবং ২০২৬ সালে পুনরায় নির্বাচিত। |
| পূর্ণমন্ত্রী | ২০২৬ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ। |
| আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি | ২০০৪ সালে তাঁর নেতৃত্বে রাজশাহী ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুখী শহর’ হিসেবে স্বীকৃত। |
আধুনিক রাজশাহীর রূপকার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
রাজশাহীকে আজকের পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে প্রধান কারিগর বলা হয় মিজানুর রহমান মিনুকে। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে রাজশাহীর রাস্তাঘাট, অবকাঠামো এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। বিশেষ করে ২০০৪ সালে ইউনেস্কো যখন রাজশাহীকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মহানগরী’ হিসেবে ঘোষণা করে, তখন তাঁর নেতৃত্ব বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়। রাজশাহীর গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটি ইমেজ মূলত তাঁর মেয়রের দায়িত্ব পালনের সোনালী সময়ের অবদান।
দীর্ঘ ৪৬ বছর পর রাজশাহীর ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন মিজানুর রহমান মিনু। এই বিজয় কেবল তাঁর ব্যক্তিগত নয়, বরং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে রাজশাহীবাসীর। ১৯৭৯ সালে এমরান আলী সরকারের পর গত ৪৬ বছরে রাজশাহী সদর আসন থেকে নির্বাচিত আর কেউ পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তাঁকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের মতে, মিনুর সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতি উত্তরবঙ্গের রাজনীতিকে শক্তিশালী করেছে। ভূমিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নিয়োগ রাজশাহীর থমকে যাওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।
উপসংহার
মিজানুর রহমান মিনু কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একটি আদর্শের প্রতীক। সাধারণ মানুষের দাবি ও অভাব-অভিযোগ শুনতে তিনি সবসময় সাবলীল। কারো কাছ থেকে তিনি বিমুখ হয়ে ফেরেন না—এটাই তাঁর রাজনীতির মূল শক্তি। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় একজন সর্বকনিষ্ঠ মেয়র থেকে আজ তিনি দেশের ভূমিমন্ত্রী। রাজশাহী তথা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা, তাঁর অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও জাদুকরী ব্যক্তিত্ব দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
