ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থাকলেও শহরের মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গ্যাসের তীব্র ঘাটতির সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, রান্না, ব্যবসা ও অন্যান্য গৃহস্থালির কাজের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সম্মুখীন। বিশেষ করে শীতকালে সংকট আরও গভীর হয়।
এই পরিস্থিতিতে রোববার, ১১ জানুয়ারি, সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কাউতলি বাসস্ট্যান্ডে শহরের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নারীরা, পুরুষরা, ব্যবসায়ীরা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ হাতে হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে গ্যাস সরবরাহ অনিয়মের প্রতিবাদ জানায়। বক্তারা উল্লেখ করেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, কিন্তু এখানকার মানুষ নিয়মিত গ্যাস পাচ্ছে না। আমরা সময়মতো বিল পরিশোধ করি, তবুও দিনের অধিকাংশ সময় রান্নার জন্য গ্যাস পাওয়া যায় না।”
অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির আহমেদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এ বি এম মুছা, জেলা ছাত্রদলের প্রাক্তন আহ্বায়ক শেখ হাফিজ উল্লাহ, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুখপাত্র আরিফ বিল্লাহ এবং তরী বাংলাদেশের সদস্য সোহেল রানা ভূঁইয়া।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন দে ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারা দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গ্যাস সরবরাহ খুবই অপ্রতুল। কাউতলি এলাকার গৃহিণী সুলতানা বেগম জানান, “সকালে গ্যাস থাকে না, দুপুরে মাত্র আধা ঘণ্টা, রাতে এক ঘণ্টা।” ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন যোগ করেন, “হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা মার খাচ্ছে। সিলিন্ডারের উপর নির্ভর করতে গিয়ে খরচ বেড়েছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের সংক্ষিপ্ত তথ্য:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অবস্থান | ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা |
| দেশের মোট উৎপাদনে অনুপাত | প্রায় ৩০% |
| সক্রিয় কূপ সংখ্যা | ২৭টি |
| প্রধান সমস্যা | স্থানীয় সরবরাহ দুর্বল, চাহিদার তুলনায় কম |
| প্রভাবিত জনগোষ্ঠী | শহরের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, গৃহিণী |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হবে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, স্থায়ী সমাধান ছাড়া শহরের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা এবং শীতকালীন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে। সমস্যার সমাধানে সরকারের কার্যকর ও তাত্ক্ষণিক হস্তক্ষেপ দাবি করা হচ্ছে।
