বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বা হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. শাহীনুল ইসলামের দেওয়া নিয়মিত পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দেশের আটটি বিভাগ—রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট—এর বিভিন্ন স্থানে হালকা বৃষ্টি অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এই বৃষ্টিপাত মূলত বিচ্ছিন্নভাবে ঘটতে পারে এবং কোথাও কোথাও অল্প সময়ের জন্য আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। বিশেষ করে ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকায় এমন বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে দিনে শীতের অনুভূতি বাড়বে, বিশেষ করে ভোর ও সকালবেলায়। দিনের বেলা সূর্যের দেখা মিললেও মেঘের আড়ালে থাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম অনুভূত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী কয়েক দিন ধরে সারাদেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। বড় ধরনের ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায়, বিশেষ করে সিলেট বিভাগের পার্বত্য ও হাওর অঞ্চলে ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। এই কুয়াশা যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানান, মৌসুমি পরিবর্তনের এই সময়টাতে তাপমাত্রায় সামান্য ওঠানামা স্বাভাবিক ঘটনা। উত্তর দিক থেকে আসা শীতল ও শুষ্ক বায়ু প্রবাহের কারণে দিনের তাপমাত্রা কমছে, আবার আকাশে মেঘ থাকায় রাতের তাপমাত্রা খুব বেশি কমছে না। ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কিছুটা কমে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের গুঁড়ি বৃষ্টি শীত মৌসুমের শুরুতে প্রায়ই দেখা যায়। এতে বাতাসে আর্দ্রতা কিছুটা বাড়ে এবং ধুলাবালি কমে যায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে আকাশ মেঘলা থাকলে শীতজনিত রোগ, যেমন সর্দি-কাশি ও জ্বরের প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হালকা বৃষ্টি শীতকালীন ফসলের জন্য কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে গম, সরিষা ও শাকসবজির জমিতে এই বৃষ্টি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত কুয়াশা ও দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো না থাকলে ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এই আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে। সকালে কুয়াশা ও হালকা ঠান্ডার কারণে কর্মস্থলগামী মানুষদের বাড়তি সময় নিয়ে বের হতে হতে পারে। নদী ও সড়কপথে চলাচলের সময়ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
