দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে নিজ ছেলেকে হত্যার অনুমতি মায়ের

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে সিরাজুল ইসলাম (২৫) হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য নিজের মায়ের অনুমতি নিয়ে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে সিরাজুলকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

গত ২৯ অক্টোবর, সকালে উপজেলার পূর্ব চরকৈজুরী গ্রামের সড়কের পাশে সিরাজুল ইসলামের ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়, পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। নিহতের মা শেফালী খাতুন বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে থানার অফিসার ইনচার্জ আছলাম আলীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়।

৩ নভেম্বর রাতে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- আল আমীন মণ্ডল (৩৮), সেলিম মণ্ডল (৩২), আমিরুল ইসলাম (৩৩), ওমর ফারুক (৩৮), এবং আব্দুল গফুর প্রামাণিক (৫৫)। এরা সবাই পূর্ব চরকৈজুরী গ্রামের বাসিন্দা। পরদিন তাদের ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

রিমান্ডে আসামিরা সিরাজুল হত্যার সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তারা জানান, চরকৈজুরী গ্রামে মুসা মণ্ডল গোষ্ঠী এবং গোপালপুর গ্রামের খোকন মাস্টার গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ ছিল। ২০২১ সালে এই বিরোধে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়, পরে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় আপস-মীমাংসা হয়। ওই সময়ে আসামিরা বাদী পক্ষের খোকন মাস্টারকে ৫ লাখ টাকা দেন এবং অবশিষ্ট টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

এই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে সিরাজুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসামিরা। সিরাজুল মাদকাসক্ত হওয়ায় তার মা শেফালী খাতুন অতিষ্ঠ ছিলেন এবং তার ছেলেকে হত্যা করার জন্য দেড় লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ২৮ অক্টোবর রাতে সিরাজুলকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে অন্য একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। পরে রাত সাড়ে ৩টায় গামছা পেঁচিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং লাশ রাস্তার পাশে ফেলে দেয়া হয়।

মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই শারফুল ইসলাম জানান, আসামিরা তাদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আদালত তাদের ৫ জনকে সিরাজগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন হওয়ায় এলাকাবাসী পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।