হাসপাতাল কর্মীকে দুই বছর ধরে ধর্ষণ করলেন পরিচালক।বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বিকেলে নাটোর সদর আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান কানাইখালি বিসমিল্লাহ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল মৃধা। এসময় বিচারক মো. রওশন আলম জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, গোপনে গোসলের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ার হুমকি দিয়ে ওই নারীকে যৌন নির্যাতন করা হয়। অভিযুক্ত উজ্জ্বল (৩২) জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার পূর্ব মাধনগর গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে। ভুক্তভোগী নারী নলডাঙ্গার বাসিন্দা। তিনি ওই হাসপাতালে চাকরি করতেন।
হাসপাতাল কর্মীকে দুই বছর ধরে ধর্ষণ করলেন পরিচালক
সর্বশেষ গত ২ জুন উজ্জ্বল তাকে হাসপাতালে নিজের কক্ষে আটকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় ওই দিন তিনি নাটোর থানায় মামলা করেন। উজ্জ্বল আদালতে আত্মসমর্পণের পর মামলার বিষয়টি জানাজানি হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, চার বছর আগে ভুক্তভোগী নারী এক রোগীকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যান। এর সূত্র ধরে উজ্জ্বলের সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। তখন উজ্জ্বল নির্দিষ্ট কমিশন প্রদানের শর্তে তাকে হাসপাতালটিতে রোগী পাঠাতে বলেন। এভাবে উজ্জ্বলের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে উজ্জ্বল তাকে হাসপাতালের মাঠকর্মী হিসেবে কাজের প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হন। তখন থেকে হাসপাতালে চাকরির পাশাপাশি রোগী বেশি থাকলে বা কোনো রোগীর রাতে অপারেশন হলে তিনি (ভুক্তভোগী) হাসপাতালে অবস্থান করতেন।

২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে রোগীর চাপের কারণে একদিন তিনি হাসপাতালে অবস্থান করেন। ওই দিন তিনি বাথরুমে গোসলের সময় উজ্জ্বল গোপনে তার ভিডিও ধারণ করেন। পরে উজ্জ্বল তাকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। তিনি রাজি না হওয়ায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন উজ্জ্বল। তিনি ঘটনাটি পুলিশকে জানানোর উদ্যোগ নিলে উজ্জ্বল ভিডিওটি ডিলিট করার আশ্বাস দেন। উজ্জ্বলকে বিশ্বাস করে তিনি বিকেলে হাসপাতালে কাজে যোগ দেন। পরে তাকে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় উজ্জ্বলের শোবার ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও গোপন ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করেন উজ্জ্বল। এবার এই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দুই বছরে বিভিন্ন সময়ে উজ্জ্বল তার শোবার ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। এ নিয়ে ওই নারী যন্ত্রণায় ভুগছিলেন।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, উজ্জ্বল গোপনে ছবি ও গোসলের ভিডিও ধারণের পর ব্ল্যাকমেইল করে শহরের একাধিক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। তার এই অপকর্মে ওই হাসপাতালের অন্য পার্টনাররাও জড়িত আছেন। তাদের সহযোগিতায় তিনি আমাকে ধর্ষণ করেছেন। তার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্য ডিভাইসে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাবে। আমি এ ঘটনায় বিচার চাই।

নাটোর সদর থানার ওসি নাসিম আহমেদ বলেন, ভুক্তভোগী নারীর মামলাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। নাটোর জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের ভেতরে এক নারীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করার ঘটনাটি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অভিযুক্ত পরিচালকের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা অন্য কোনো ডিভাইসে আরও নারীদের ব্ল্যাকমেইলের কোনো ছবি বা ভিডিও রয়েছে কি না তা অনুসন্ধান করবে পুলিশ। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।