কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা-হোমনা সড়ক সংলগ্ন পূর্ব পাশের কাঠপট্টি এলাকায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত পাশের দোকানগুলোতেও আগুন ছড়িয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমে দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোমতী নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। তবে ফার্নিচারের দোকানে থাকা দাহ্য রাসায়নিক, বিশেষ করে রঙের কেমিক্যালের কারণে আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। পরে হোমনা ও চান্দিনা উপজেলা থেকে ছয়টি ইউনিট যোগ দিয়ে সম্মিলিতভাবে আগুন নেভানো অভিযান চালানো হয়। আড়াই ঘণ্টার ক্রমাগত প্রচেষ্টার পর সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, আগুনে নিম্নলিখিত দোকানগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে:
| দোকানের ধরণ | সংখ্যা | ক্ষতির বিবরণ |
|---|---|---|
| ফার্নিচারের দোকান | ১০ | কোটি টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত |
| ইলেকট্রিক ও এসি শোরুম | ১ | বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে ছাই |
| অটোরিকশা গ্যারেজ | ২ | যানবাহনের সরঞ্জাম ধ্বংস |
| মুদি দোকান | ৪ | খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত |
| চাল ও খেজুরের গোডাউন | ১ | রমজান উপলক্ষে মজুত খাদ্যপণ্য পুড়ে গেছে |
মোট ক্ষতিগ্রস্ত দোকান সংখ্যা: ২৫
প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফার্নিচার ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, “আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু ফার্নিচার মার্কেটেই কয়েক কোটি টাকার মালামাল ছিল।”
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, “দাউদকান্দি, হোমনা ও চান্দিনা থেকে মোট ৯টি ইউনিট একত্রে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে আগুনের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।”
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হালিম জানান, গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা আগুন নেভাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।
উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজার পুনর্গঠন ও ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
