প্যানামা পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ, যা চট্টগ্রাম, বাংলাদেশগামী ছিল, থাইল্যান্ডের কোস্ট সংলগ্ন জলরাশিতে ডুবে গেছে। স্থানীয় সময় ৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার, বিকেল ৩:৩০ ঘটিকায় ফুকেটের তটের কাছের গভীর জলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ডুবন্ত জাহাজের নাম এমভি সাইলোয়েড আর্ক। এটি ১১৫ মিটার লম্বা এবং ২৯৭টি কন্টেইনার বহন করছিল, যা বাংলাদেশি আমদানিকারকদের মালামাল। জাহাজটি ৫ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। দুর্ঘটনা ঘটার সময় যাত্রা মাত্র দুই দিন বয়সী ছিল।
বাংলাদেশি এজেন্ট আলভি লাইনসের ব্যবস্থাপক মোঃ মুক্তুল হোসেন জানিয়েছেন, জাহাজটি হঠাৎ করে ফুকেটের উপকূল থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল দূরে ডানে ঝুঁকে গিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে ডুবে যায়। পরিস্থিতি মারাত্মক হওয়ায় জাহাজের ক্যাপ্টেন অবিলম্বে জাহাজ ত্যাগের ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর তাত্ক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। কাছাকাছি একটি মাছ ধরার নৌকা ও থাই নৌবাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে সব ১৬ জন ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত নাবিকদের ফুকেটে একটি হোটেলে রাখা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার মূল তথ্যসমূহ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| পরামিতি | বিবরণ |
|---|---|
| জাহাজের নাম | এমভি সাইলোয়েড আর্ক |
| দৈর্ঘ্য | ১১৫ মিটার |
| পতাকা | প্যানামা |
| প্রস্থানের তারিখ ও বন্দর | ৫ ফেব্রুয়ারি, পোর্ট ক্লাং, মালয়েশিয়া |
| গন্তব্য | চট্টগ্রাম বন্দর, বাংলাদেশ |
| কন্টেইনার সংখ্যা | ২৯৭ |
| দুর্ঘটনার তারিখ ও সময় | ৭ ফেব্রুয়ারি, বিকেল ৩:৩০ |
| ডুবন্ত স্থান | ফুকেট উপকূল থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে |
| ক্রু উদ্ধার | ১৬ জন |
থাই কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশি এজেন্টরা মিলে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, কার্গোর মূল্য নিরূপণ ও পরিবেশগত প্রভাব যাচাই শুরু করেছেন। প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, এমন ধরনের ঘটনা প্রায়ই হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন, নেভিগেশনাল ত্রুটি বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটে।
সাগর বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক জলপথের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এটি ক্রু ও কার্গোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করছে। স্থানীয় শিপিং অপারেটরদেরকে নেভিগেশনাল প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা, নিয়মিত যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি মনিটর করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এমভি সাইলোয়েড আর্ক দুর্ঘটনা মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ সংযোগকারী ব্যস্ত সমুদ্র পথের দুর্বলতাকে পুনরায় সামনে এনেছে, যা বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও অপ্রত্যাশিত সমুদ্র বিপদে সংবেদনশীল।
