ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা উদ্বেগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। দেশের সাধারণ নাগরিক থেকে রাজনীতিক পর্যন্ত সবাই ভোটপ্রক্রিয়ার দিকে উত্তেজনা ও আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রয়েছেন। তবে এই উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং সহিংসতার ভীতি, যা ভোটারদের অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করতে পারে।

গত ৫৩ দিনে দেশে নির্বাচনী সহিংসতার ২৭৪টি ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এবং মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতার ধরন ও সংখ্যা নিম্নরূপ:

সহিংসতার ধরনঘটনা সংখ্যা
ভীতি প্রদর্শন/আক্রমণাত্মক আচরণ১৬
প্রার্থীর ওপর হামলা১৫
হত্যাকাণ্ড
প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের সংঘর্ষ৮৯
অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার
হুমকি/ভয়ভীতি প্রদর্শন
নির্বাচনী প্রচারে বাধা২৯
নির্বাচন অফিসে হামলা/ভাঙচুর/অগ্নিসংযোগ২০
অবরোধ ও বিক্ষোভ১৭
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা
অন্যান্য সহিংসতা৭০

পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও, কিছু সংখ্যার বিচারে তা কম বা বেশি হতে পারে:

সংসদ নির্বাচনসহিংসতার ঘটনানিহতআহত
দশম (২০১৩-১৪)৫৩০১১৫৩১৫
একাদশ (২০১৮-১৯)৪১৪২২৭৮০
দ্বাদশ (২০২৩-২৪)৫৩৪৪৬০

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়, নির্বাচনের আগের মাসে সহিংসতা আরও তীব্র হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ ১৮টি ঘটনা ঘটে ৪ জন নিহত ও ২৬৮ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জানুয়ারি ২০২৬-এ সহিংসতার সংখ্যা বেড়ে ৭৫টি, নিহত ১১ এবং আহত ৬১৬। নির্বাচনি প্রচারণার শুরু থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১১ দিনে ৪৯টি সহিংসতা ঘটেছে, যেখানে নিহত ৪ এবং আহত ৪১৪।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্কও তীব্র। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নাম ও পোশাক পরিবর্তন করে ৩ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ঘোষণা করেন নতুন নাম হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এমন পরিবর্তন নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

সেনাবাহিনী ভোটারদের প্রধান ভরসা হিসেবে কাজ করছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল বাহিনী সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং ভোটারদের কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অংশগ্রহণমূলক ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। ভোটার যেন নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে এবং স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে, সেটিই বর্তমান সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ।