তিন আসনেই বৈধতা পেলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলি

বাগেরহাটের নির্বাচনী ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনার জন্ম দিয়ে তিনটি সংসদীয় আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করার চূড়ান্ত অনুমতি পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএএইচ সেলিম। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত যাচাই-বাছাই পর্বে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর তিনটি মনোনয়ন পত্রই বৈধ ঘোষণা করেন। সারা দেশে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তিনটি পৃথক আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার এই ঘটনাটি এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এমএএইচ সেলিম বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট), বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) এবং বাগেরহাট-৩ (মোংলা ও রামপাল) আসন থেকে লড়াই করছেন। মনোনয়ন বৈধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর অনুসারী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সিলভার লাইন গ্রুপের এই কর্ণধার তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ২০০১ সালের নির্বাচনে বাগেরহাট-২ আসনে জয়লাভ করে চমক সৃষ্টি করেছিলেন।

এমএএইচ সেলিমের নির্বাচনী আসন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড

বিষয়বিস্তারিত তথ্য ও অবস্থান
আসনসমূহবাগেরহাট-১, ২ ও ৩ (সব কটি বৈধ)
রাজনৈতিক পরিচয়বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সভাপতি, জেলা বিএনপি
ঐতিহাসিক সাফল্য২০০১ সালে শেখ হেলাল উদ্দিনকে পরাজিত করেন
বর্তমান অবস্থানস্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
উন্নয়ন অঙ্গীকারশিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
আদর্শিক ভিত্তিশহীদ জিয়ার আদর্শ ও খালেদা জিয়ার দোয়া

মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পর এমএএইচ সেলিম এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “আমি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। রাজনীতি আমার কাছে ভোগের বিষয় নয়, বরং মানুষের সেবা করার মাধ্যম। বাগেরহাটের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা অপরিসীম বলেই আমি এই কঠিন চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছি। আমি নির্বাচিত হতে পারলে আমার বিগত দিনের উন্নয়নের ধারাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করব এবং বিশেষ করে তরুণদের জন্য আধুনিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।”

স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, যদিও যান্ত্রিক কারণে বর্তমানে দলীয় পদ-পদবি থেকে তিনি কিছুটা দূরে রয়েছেন, কিন্তু আদর্শিকভাবে তিনি এখনও শহীদ জিয়ার সৈনিক। তিনি বলেন, “আমি কিন্তু দলের বিপক্ষে নই। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আশীর্বাদ আমার সাথে আছে। বাগেরহাটবাসী জানে আমি কী পরিমাণ উন্নয়ন করতে পারি। আমি বিশ্বাস করি তারা আমাকে ভালোবেসে সঠিক রায় দেবে।”

নির্বাচনী ময়দানে একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর এমন হ্যাটট্রিক লড়াই আসন্ন নির্বাচনের সমীকরণকে আরও জটিল ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, বাগেরহাটের সাধারণ ভোটাররা তাঁদের এই অভিজ্ঞ নেতাকে কতটা সমর্থন প্রদান করেন।